images

লাইফস্টাইল / পরামর্শ

বজ্রপাত কেন হয়? জানুন কারণ ও বাঁচার সহজ উপায়

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬ , ০৯:২৯ এএম

বাংলাদেশে প্রতি বছর শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় বজ্রপাত। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে গড়ে প্রায় ৩০০ জন মানুষ বজ্রপাতে মারা যান। বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাতপ্রবণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে।

প্রতি বছর গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে আকাশে কালো মেঘ জমলেই দেখা দেয় বজ্রপাত। কিন্তু এই ভয়ংকর প্রাকৃতিক ঘটনাটি আসলে কীভাবে ঘটে?

যেভাবে তৈরি হয় বজ্রপাত

প্রচণ্ড গরমে নদী, খাল, বিল ও সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে আকাশে উঠে যায়। পরে এই জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে। মেঘের ভেতরে থাকা পানিকণা ও বরফকণার মধ্যে ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে বৈদ্যুতিক আধান সৃষ্টি হয়।

এ সময় মেঘের এক অংশে ঋণাত্মক আধান এবং অন্য অংশে ধনাত্মক আধান জমা হতে থাকে। দুই বিপরীত আধান একে ওপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করলে তৈরি হয় বিশাল শক্তির বৈদ্যুতিক স্রোত। আর সেই স্রোতই হলো বজ্রপাত।

মেঘে আলো ঝলকানি ও শব্দ হয় কেন?

বজ্রপাতের সময় আকাশে মুহূর্তের মধ্যে প্রচণ্ড তাপ তৈরি হয়। বজ্রপাতের পথে বাতাসের তাপমাত্রা প্রায় ২৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।

এই তাপে বাতাস দ্রুত প্রসারিত হয় এবং আশপাশের ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে সংঘর্ষে বিকট শব্দ সৃষ্টি করে। আমরা একে বলি মেঘের গর্জন বা বজ্রধ্বনি।

বজ্রপাতের ধরন

বিজ্ঞানীরা সাধারণত বজ্রপাতকে তিন ভাগে ভাগ করেন—

  • মেঘের ভেতরে বজ্রপাত
  • এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে বজ্রপাত
  • মেঘ থেকে মাটিতে বজ্রপাত

এর মধ্যে মেঘ থেকে মাটিতে আঘাত করা বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী।

আরও পড়ুন
Web-Image

পৃথিবীর এত পানি এলো কোথা থেকে?

বজ্রপাত নিয়ে কিছু চমকপ্রদ তথ্য

  • পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ বার বজ্রপাত হয়।
  • অধিকাংশ বজ্রপাত সমুদ্রের ওপর ঘটে।
  • একটি বজ্রপাত থেকে প্রায় ১০০ কোটি জুল শক্তি উৎপন্ন হতে পারে।
  • বজ্রপাত সাধারণত এক সেকেন্ডেরও অনেক কম সময় স্থায়ী হয়।
  • অনেক মানুষ বজ্রপাতকে ভয় পান। এই ভয়কে বলা হয় বজ্রভীতি।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে যা করবেন

বজ্রপাতের সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।

১. খোলা মাঠ, উঁচু জায়গা বা গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না।
২. পুকুর, নদী বা জলাশয়ের কাছ থেকে দূরে থাকুন।
৩. মোটরসাইকেল বা সাইকেলে থাকলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
৪. বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সংযোগ খুলে রাখুন।
৫. খোলা মাঠে আটকা পড়লে মাথা নিচু করে বসে থাকুন, তবে মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
৬. পাকা ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
৭. গাড়িতে থাকলে জানালা বন্ধ রাখুন এবং গাড়ির ধাতব অংশ স্পর্শ করবেন না।

সতর্কতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

বজ্রপাত একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে বজ্রপাতে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই আকাশে কালো মেঘ জমলে এবং বজ্রধ্বনি শোনা গেলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।


আরটিভি/জেএমএ