সমুদ্রকে ঘিরে রহস্যের শেষ নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি হলেও এখনো সমুদ্রের অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি গবেষকেরা। এমনকি অনেকের মতে, মানুষ মহাকাশ সম্পর্কে যতটা জানে, সমুদ্রের গভীরতা সম্পর্কে ততটা জানে না।
পৃথিবীর বিপুল জলরাশি থেকে শুরু করে সমুদ্রতলের অজানা জগৎ—বিজ্ঞানীদের সামনে এখনো রয়ে গেছে অসংখ্য ধাঁধা। চলুন জেনে নেওয়া যাক সমুদ্রের এমনই সাতটি রহস্য সম্পর্কে।
পৃথিবীর এত পানি এলো কোথা থেকে?
পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ অংশজুড়ে রয়েছে পানি। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ পানি কোথা থেকে এসেছে, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো জানা যায়নি। একদল বিজ্ঞানীর ধারণা, পৃথিবী গঠনের সময় থেকেই এই পানি ছিল। অন্যদিকে অনেক গবেষক মনে করেন, পরবর্তী সময়ে পৃথিবীতে আঘাত হানা গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মাধ্যমেই পানি এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
হাঙরের লিভার খাচ্ছে কেন ওর্কা?
দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে কয়েক বছর ধরে বড় হাঙরের মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয়, প্রায় সব হাঙরেরই লিভার অনুপস্থিত। গবেষকদের মতে, দুটি পুরুষ ওর্কা এই কাজ করছে। তারা হাঙরকে বিশেষ কৌশলে অচল করে লিভার বের করে খেয়ে ফেলে। তবে কেন তারা এমন আচরণ করছে, তার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
রহস্যময় পাথরের স্থাপনা
জাপানের ইয়োনাগুনি দ্বীপের কাছে সমুদ্রতলে পাওয়া গেছে এক বিস্ময়কর পাথরের কাঠামো। এটি দেখে অনেকের মনে হয় হারিয়ে যাওয়া কোনো প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন। কেউ বলছেন এটি মানুষের তৈরি, আবার কেউ বলছেন এটি প্রকৃতির সৃষ্টি। বিতর্কের শেষ এখনো হয়নি।
সমুদ্রের অদ্ভুত শব্দের উৎস কোথায়?
সমুদ্রের গভীর থেকে প্রায়ই রহস্যময় শব্দ রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সুরের মতো শব্দ এবং অজানা উৎসের শব্দ। কিছু শব্দের ব্যাখ্যা মিললেও অনেক শব্দের উৎস আজও অজানা রয়ে গেছে।
সমুদ্রতলের পুরো চিত্র এখনো অজানা
সমুদ্রের তলদেশে আসলে কী রয়েছে, তা পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কিছু অংশের মানচিত্র তৈরি হলেও সমুদ্রতলের অর্ধেকেরও কম এলাকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সম্পূর্ণ মানচিত্র তৈরি হলে পৃথিবীর ইতিহাস ও জলবায়ু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে।
হারিয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিক, কিন্তু কোথায়?
প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সমুদ্রে গিয়ে জমা হচ্ছে। তবে এর একটি ছোট অংশ ছাড়া বাকি প্লাস্টিক কোথায় যাচ্ছে, তা এখনো রহস্য। অনেক প্লাস্টিক ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে সামুদ্রিক প্রাণীদের শরীরে প্রবেশ করছে, কিন্তু বড় অংশের অবস্থান অজানাই রয়ে গেছে।
আলো ছড়ায় কেন গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা?
সমুদ্রের গভীরে থাকা অসংখ্য প্রাণী নিজের শরীর থেকে আলো তৈরি করতে পারে। শিকার ধরা, সঙ্গী খোঁজা কিংবা শত্রুকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা এই আলো ব্যবহার করে। তবে এই বিশেষ ক্ষমতার উৎপত্তি কীভাবে হলো, তার সঠিক উত্তর এখনো খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা।
সমুদ্রের এই রহস্যগুলো প্রমাণ করে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলভাগ এখনো অজানা প্রশ্নে ভরা। গবেষণা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন বিস্ময়, আর সমুদ্রের গভীরতা যেন আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে।
তথ্যসূত্র: সায়েন্স ফোকাস
আরটিভি/জেএমএ




