images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ

গরমে বৃষ্টি হলেও কেন ঘাম ঝরে

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬ , ১২:৩১ পিএম

গরমের দিনে আকাশে হঠাৎ বৃষ্টি নামলেও অনেক সময় অস্বস্তি কমে না, বরং আরও বেড়ে যায়। চারপাশে যেন গুমোট এক পরিবেশ তৈরি হয়। শরীর ঘামে ভিজে যায়, ত্বক হয়ে ওঠে আঠালো। প্রশ্ন জাগে—বৃষ্টি হলেও কেন গরম কমে না, বরং ঘাম আরও বেড়ে যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বাতাসের আর্দ্রতার জটিল সম্পর্ক।

শরীর কেন ঘামে

মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় নির্দিষ্ট থাকে। বাইরে গরম বা ঠান্ডা যাই হোক, শরীর সেই তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। এই ভারসাম্য রক্ষা করতে শরীর ঘামের সাহায্য নেয়।

গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে ত্বকের তাপ কমায়। ঘাম ত্বকের ওপর এসে বাষ্পে পরিণত হলে শরীর কিছুটা শীতল হয়।

আসল সমস্যা কোথায়

গোলমাল শুরু হয় তখনই, যখন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। আর্দ্রতা মানে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি।

বৃষ্টির পর পরিবেশে এই আর্দ্রতা বেড়ে যায়। ফলে ঘাম সহজে শুকায় না। ঘাম ত্বকের ওপর থেকে বাষ্পে পরিণত হতে না পারায় শরীর ঠান্ডা হতে পারে না।

ফলে শরীর একদিকে ভিজে থাকে, অন্যদিকে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন
Web-Image

ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখার সেরা ৩ ইনডোর প্লান্ট

ঘাম বাড়ছে না, বাড়ছে অস্বস্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় মনে হয় ঘাম বেশি হচ্ছে, কিন্তু আসলে সমস্যা হলো ঘাম শুকাতে না পারা। ঘাম জমে থাকায় শরীর আঠালো হয়ে যায় এবং অস্বস্তি বাড়ে।

অর্থাৎ, বৃষ্টির পর ঘাম বাড়ে না, বরং ঘামের কার্যকারিতা কমে যায়।

অনুভূত তাপমাত্রার রহস্য

আবহাওয়ার প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি হলেও “অনুভূত তাপমাত্রা” আরও বেশি হয়। কারণ বাতাসের আর্দ্রতা এই অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়।

আর্দ্রতা যত বেশি, শরীরের কাছে গরম তত বেশি তীব্র মনে হয়।

বৃষ্টি মানেই সব সময় স্বস্তি নয়। যদি বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, তাহলে শরীরের ঘাম শুকাতে পারে না। ফলে গরম কমার বদলে অস্বস্তিই বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কারণেই অনেক সময় বৃষ্টির পরও মানুষ ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে যায় এবং গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।


আরটিভি/জেএমএ