মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ১০:৫১ এএম
দীর্ঘ জীবন নয়, বরং সুস্থ ও সক্রিয় জীবন—এই লক্ষ্যেই এখন গুরুত্ব বাড়ছে শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামের দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইক্লিংয়ের মতো ব্যায়াম যেমন শরীরকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখে, তেমনি ওজন তোলার ব্যায়াম (ওয়েট লিফটিং) বা শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন বয়স বাড়লেও শরীরকে সচল ও সক্ষম রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে হালকা ভারী জিনিস তোলা বা শরীরের ওজন ব্যবহার করে করা ব্যায়ামও ধীরে ধীরে শরীরকে শক্তিশালী করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার গবেষকদের মতে, শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম শরীরের পেশি শক্ত করে, হাড়ের স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করে দেয়।
কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক জানান, অনেক মানুষ শুধু কার্ডিও ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করেন, কিন্তু শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামকে অনেক সময় উপেক্ষা করা হয়। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র দুই দিন শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। শুরুতে চেয়ার থেকে ওঠা-বসা, হালকা স্কোয়াট, দেয়ালে ভর দিয়ে পুশ-আপ বা ভারী বোতল দিয়ে হাতের ব্যায়াম দিয়েই শুরু করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্যায়াম জটিল হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ঘরে বসেই সহজ কিছু অনুশীলন—যেমন বসা-উঠা, প্ল্যাঙ্ক বা ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়াম—শরীরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
যারা জিমে যান, তাদের জন্য স্কোয়াট, বেঞ্চ প্রেস ও ডেডলিফটের মতো বড় মাংসপেশি ব্যবহার করা ব্যায়ামকে সবচেয়ে কার্যকর বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পিঠের শক্তি বাড়ানো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখে এবং ব্যথা কমায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ালে শরীর আরও শক্তিশালী হয়। শুরুতে অল্প সময়ের ব্যায়ামও পরবর্তীতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নিয়মিত শক্তি ব্যায়াম হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
একটি বড় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ মিনিট শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ১০ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কার্ডিও ও শক্তি ব্যায়াম একসঙ্গে করলে এই উপকার আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, বরং ভালোভাবে বাঁচার জন্য শক্তি প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়লেও যারা নিয়মিত এই ব্যায়াম করেন, তাদের পেশি ও শারীরিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।
গবেষকরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে শক্তির ভাণ্ডার তৈরি রাখা খুবই জরুরি। কারণ অসুস্থতা, আঘাত বা অস্ত্রোপচারের সময় এই শক্তিই শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এই ব্যায়ামের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। অনেকেই বলেন, ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমে এবং মন শান্ত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্যায়াম জটিল না করে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অর্থাৎ, শুধু হাঁটা বা দৌড় নয়—শরীরকে সত্যিকারের শক্তিশালী রাখতে হলে নিয়মিত ওয়েট লিফটিং বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও হতে হবে জীবনের অংশ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ