ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রী বেশি উপার্জন করলে পুরুষের আত্মসম্মানে প্রভাব পড়ে, বলছে নতুন গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
স্ত্রী বেশি উপার্জন করলে পুরুষের আত্মসম্মানে প্রভাব পড়ে, বলছে নতুন গবেষণা । ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক সমাজে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাচ্ছে দ্রুত। একসময় যেখানে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হিসেবে পুরুষকে ধরা হতো, এখন সেই চিত্র অনেক জায়গায় বদলে যাচ্ছে। নারীরা ক্রমশ বেশি উপার্জন করছেন, আর অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের প্রধান অর্থনৈতিক দায়িত্বও তাদের হাতে যাচ্ছে। আর এই পরিবর্তনই পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মসম্মানে প্রভাব পড়ে? এমন প্রশ্নকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই মেডিকেল স্কুল, সুইডেনের দীর্ঘমেয়াদি আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা আইপসস–এর গবেষণা তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, পারিবারিক আয়ের ভারসাম্য বদলালে সম্পর্কের ক্ষমতার সমীকরণেও পরিবর্তন আসে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া কয়েকজন পুরুষ জানিয়েছেন, স্ত্রী বেশি আয় করলে সমাজ ও আশপাশের মানুষের আচরণ অনেক সময় তাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ কেউ জানান, ঐতিহ্যগত ধারণায় ‘পুরুষই উপার্জন করবে’—এই প্রত্যাশা ভেঙে গেলে মানসিক চাপ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন

গবেষকদের মতে, টাকা ও ক্ষমতা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই পরিবারের ভেতরে পুরুষ যদি প্রধান উপার্জনকারী না থাকেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ক্ষমতাহীন মনে করতে পারেন, যা মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সুইডেনে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যখন স্ত্রীরা স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করতে শুরু করেন, তখন পুরুষদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার হার প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কিছুটা মানসিক চাপ বৃদ্ধি দেখা গেলেও পুরুষদের ওপর প্রভাব তুলনামূলক বেশি।

যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ডেমিড গেটিক জানান, এই পরিবর্তন শুধু আয়ের নয়, বরং সম্পর্কের সন্তুষ্টির সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। তবে তিনি এটিও বলেন, সব ক্ষেত্রে বিষয়টি একভাবে কাজ করে না।

অন্যদিকে গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে নারী বেশি উপার্জন করলেও ঘরের কাজ ও সন্তান পালনের দায়িত্ব এখনও নারীদের ওপরেই বেশি থাকে। ফলে পরিবারে ভারসাম্য পুরোপুরি বদলায় না।

তবে সব দিকই নেতিবাচক নয়। গবেষণা বলছে, পুরুষরা যখন সন্তান লালন-পালনে বেশি সময় দেন, তখন পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং সন্তানের সঙ্গে বন্ধনও গভীর হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি পারিবারিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে ধীরে ধীরে ‘পুরুষই একমাত্র উপার্জনকারী’—এই ধারণা বদলাচ্ছে। তবে পরিবর্তনের গতি ধীর হওয়ায় অনেক পুরুষ এখনো নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ছেন।

গবেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতে যদি পারিবারিক ভূমিকা আরও সমানভাবে ভাগ করা যায়, তবে সম্পর্কের ভারসাম্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
আরও পড়ুন
স্ত্রীর প্রশংসার দিনে স্বামী-স্ত্রীর তুমুল মারামারি, সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টা!
আজ প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন
সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস
৮১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ স্বামী-স্ত্রী ধরা