মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ১১:৩৮ এএম
রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে বেশিরভাগ মানুষই পরের দিন ক্লান্তি, আলসেমি আর ঝিমুনি অনুভব করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু মানুষ মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও পরদিন একদম সতেজ ও কর্মঠ থাকেন। তাদের দেখে অনেকেই ভাবেন—কম ঘুমিয়েও এত এনার্জি আসে কোথা থেকে?
গবেষকদের মতে, এই ক্ষমতা সবার নেই। এটি মূলত শরীরের জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিরল বিষয়।
গবেষণায় বেরিয়ে এল জিনগত রহস্য
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি পরিবার নিয়ে গবেষণা করেন, যেখানে মা ও মেয়ে দুজনই স্বাভাবিকের চেয়ে কম ঘুমান। পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের শরীরে ডিইসি-২ নামে একটি জিনে পরিবর্তন রয়েছে।
এই পরিবর্তনের কারণে ইঁদুরের ওপর একই পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তারাও কম ঘুমিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।
ওরেক্সিন হরমোনের ভূমিকা
পরবর্তী গবেষণায় জানা যায়, এই জিনের পরিবর্তন ওরেক্সিন নামের একটি হরমোনকে প্রভাবিত করে। এই হরমোন শরীরকে জাগিয়ে রাখে।
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সন্ধ্যায় এই হরমোন কমে যায়, ফলে ঘুম আসে। কিন্তু যাদের এই জিনে পরিবর্তন আছে, তাদের শরীরে ওরেক্সিন বেশি সক্রিয় থাকে—ফলে তারা বেশি সময় জেগে থাকতে পারেন।
আরও জিনের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা
২০১৯ সালে গবেষকরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনের সন্ধান পান, যার নাম এডিআরবি-১। এই জিন মস্তিষ্কের ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া এনপিএসআর-১ এবং এমজিএলইউআর-১ নামের আরও কিছু জিনেও পরিবর্তন দেখা গেছে, যা কম ঘুমিয়েও শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং স্মৃতিশক্তি ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
সবাই কি কম ঘুমিয়ে সুস্থ থাকতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না।
গবেষণায় স্পষ্টভাবে জানা গেছে, খুব অল্প কিছু মানুষই সত্যিকারের “স্বল্প ঘুমের মানুষ”। তারা স্বাভাবিকভাবেই কম ঘুমিয়ে সুস্থ থাকেন।
কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ যদি জোর করে কম ঘুমান, তাহলে—
সাধারণ মানুষের জন্য কত ঘুম জরুরি?
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম সবচেয়ে ভালো। এর চেয়ে কম ঘুম শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকে প্রভাবিত করতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ