images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

কোন শাক কেন খাবেন, জানুন মহৌষধি গুণ

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ০২:০৮ পিএম

বাঙালির খাবারের পাত থেকে শাক যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। ভাতের সঙ্গে এক মুঠো শাক শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও বয়ে আনে নানা উপকার। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির রান্নাঘরে থাকা বিভিন্ন শাক এখনো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, কচুশাক কিংবা পালংশাক—প্রতিটি শাকের রয়েছে আলাদা পুষ্টিগুণ। কারও মধ্যে রয়েছে রক্ত বাড়ানোর উপাদান, কেউ আবার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। জেনে নেওয়া যাক কোন শাকে কী উপকার।

পুঁই শাক: হজমে সহায়ক

1
পুঁই শাক

 

পুঁই শাকে রয়েছে প্রচুর পানি ও আঁশ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ও প্রোটিন রয়েছে। শাকভাজা, চচ্চড়ি বা সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়।

হেলেঞ্চা শাক: শরীর পরিষ্কারে উপকারী

2
হেলেঞ্চা শাক

 

হেলেঞ্চা শাক রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করতে এবং যকৃতের সুস্থতায় সহায়ক বলে পরিচিত। এটি বদহজম, বুকজ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যায় উপকারী হতে পারে। ভাজি বা বড়া করে খাওয়া যায় এই শাক।

আরও পড়ুন
Web-Image1

ডোরি ফিশ না পাঙাশ, কী খাচ্ছেন রেস্তোরাঁয়? 

সরিষা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক

3
সরিষা শাক

 

সরিষা শাকে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা সালফার শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে এবং যকৃত ভালো রাখতে সহায়তা করে।

কচু শাক: রক্ত ও চোখের জন্য ভালো

5
কচু শাক

 

কচুশাকে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এ ও ক্যালশিয়াম। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে উপকারী। নারকেল, ছোলা বা মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা যায় এই শাক।

কলমি শাক: সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

4
কলমি শাক

 

কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমে সাহায্য করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

লাল শাক: আয়রনের ভাণ্ডার

6
লাল শাক

 

লাল শাকে প্রচুর আয়রন, ফলেট, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন এ ও সি রয়েছে। রক্তস্বল্পতা দূর করতে এটি উপকারী। ভাজি বা ডালের সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়।

মেথি শাক: ডায়াবেটিসে উপকারী

7
মেথি শাক

 

মেথি শাকে রয়েছে আঁশ, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে অনেকের কাছে জনপ্রিয়। অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া ভালো।

পালং শাক: শরীরের শক্তি বাড়ায়

15
পালং শাক

 

পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ফলেট, ভিটামিন এ ও সি। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

ঢেঁকি শাক: হৃদযন্ত্র ও চোখের যত্নে

9
ঢেঁকি শাক

 

ঢেঁকি শাকে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

মুলা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক

10
মুলা শাক

 

মুলা শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কুমড়ো শাক: ত্বক ও চোখের জন্য ভালো

11
কুমড়ো শাক

 

কুমড়ো শাকে থাকা ভিটামিন এ ও সি চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে এবং ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে।

লাউ শাক: হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক

12
লাউ শাক

 

লাউ শাকে রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে এটি হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী হতে পারে।

পাট শাক: হজমে সাহায্য করে

13
পাট শাক

 

পাট শাকে রয়েছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন সি ও আয়রন। এটি হজমশক্তি বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

শাক শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমাণ বুঝে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। নিয়মিত খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাক রাখলে শরীর পেতে পারে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি।


আরটিভি/জেএমএ