ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ডোরি ফিশ না পাঙাশ, কী খাচ্ছেন রেস্তোরাঁয়? 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
ডোরি ফিশ: ডোরি ফিশ না পাঙাশ, কী খাচ্ছেন রেস্তোরাঁয়?  । ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলে ‘ডোরি ফিশ’ নামে যে মাছ পরিবেশন করা হচ্ছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিদেশি সামুদ্রিক মাছের নামে আসলে কি ভোক্তাদের পাঙাশ মাছ খাওয়ানো হচ্ছে?

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে দেশে ডোরি মাছ আমদানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আর এ তথ্য সামনে আসার পরই ভোক্তাদের মধ্যে বেড়েছে কৌতূহল ও বিভ্রান্তি।

দেশে কি সত্যিই ডোরি মাছ আসে?

ঢাকায় অবস্থিত সার্ক কৃষি কেন্দ্রের মৎস্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ মো. শরীফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী গত দুই বছরে বাংলাদেশে ডোরি নামে কোনো মাছ আমদানি হয়নি।

dory-fish2
ডোরি ফিশ কাটিং করা হচ্ছে

তিনি বলেন, এর আগে সীমিত পরিমাণে একটি অভিজাত হোটেল বিদেশ থেকে ডোরি মাছ এনেছিল। তবে বর্তমানে রেস্তোরাঁগুলোতে ডোরি নামে যে মাছ পরিবেশন করা হচ্ছে, তা আসল ডোরি কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন

তাহলে কী খাচ্ছেন ভোক্তারা?

মো. শরীফুল ইসলামের মতে, রেস্তোরাঁয় ডোরি মাছের নামে মূলত ভিয়েতনামে উৎপাদিত এক ধরনের পাঙাশ মাছ পরিবেশন করা হতে পারে।

Basa
ভিয়েতনামে উৎপাদিত এক ধরনের পাঙাশ মাছ, নাম ‘বাসা’

এই মাছটি ‘বাসা’ নামে পরিচিত। নদীতে চাষ করা এ মাছের গন্ধ দেশি পাঙাশের মতো নয়। এর মাংস বেশি সাদা এবং স্বাদও কিছুটা ভিন্ন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এটি ডোরি মাছ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাছটি শনাক্ত করা এত কঠিন কেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ভোক্তার পক্ষে মাছটি দেখে আসল পরিচয় জানা প্রায় অসম্ভব।

কারণ রেস্তোরাঁয় পরিবেশনের সময় মাছের মাথা, চামড়া, কাঁটা কিংবা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থাকে না। শুধু মাংসের অংশ পরিবেশন করা হয়। ফলে বাহ্যিকভাবে এটি ডোরি নাকি অন্য কোনো মাছ, তা বোঝা কঠিন।

Web-Image
ফ্রাই ডোরি ফিশ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিশ্চিতভাবে পরিচয় জানতে হলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

আসল ডোরি মাছ কেমন?

ডোরি বা জন ডোরি একটি সামুদ্রিক মাছ। এর শরীর চ্যাপ্টা, মাথা বড় এবং শরীরের দুই পাশে গোল কালো দাগ থাকে। এই বিশেষ দাগের কারণেই মাছটি সহজে চেনা যায়।

Dory-Fish
ডোরি ফিশ

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে এ মাছ পাওয়া যায়। এটি অন্য মাছ, চিংড়ি ও সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।

বিশ্বজুড়ে ডোরি মাছের সবচেয়ে বড় পরিচিতি এর স্বাদের জন্য। এর সাদা মাংস নরম হলেও সহজে ভেঙে যায় না। স্বাদ মৃদু ও হালকা মিষ্টি হওয়ায় নানা ধরনের রান্নায় এটি জনপ্রিয়।

কেন এত দামি ডোরি মাছ?

বিশ্বের অনেক দেশে ডোরি মাছকে অভিজাত রেস্তোরাঁর খাবার হিসেবে ধরা হয়।

5
ডোরি ফিশ

বিদেশের বাজারে এক কেজি ডোরি মাছের মাংসের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর দাম আরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায় এবং পুরো মাছের তুলনায় খাওয়ার উপযোগী অংশ কম হওয়ায় এর দাম বেশি।

দেশে ডোরি নামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম কত?

দেশের বিভিন্ন অনলাইন মাছ বিক্রেতার তালিকা অনুযায়ী, ডোরি নামে বিক্রি হওয়া মাছের মাংসের দাম সাধারণত প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

এই বিশাল মূল্য পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক ভোক্তা।

রাসায়নিকের অভিযোগে নতুন শঙ্কা

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডোরি নামে বিক্রি হওয়া কিছু মাছে স্বাদ পরিবর্তনের জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাইফ হোসেন খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যদি সত্যিই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তিনি জানান, কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে তা না জেনে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা কঠিন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ডোরি মাছ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—রেস্তোরাঁয় ডোরি নামে যে মাছ পরিবেশন করা হচ্ছে, তা আসলে ডোরি, নাকি অন্য কোনো মাছ? উত্তর জানতে প্রয়োজন আরও গবেষণা ও পরীক্ষার।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
মৌমাছির চাকে বাজপাখির হানা, প্রাণ গেল বৃদ্ধের
বুড়ির বাঁধে মাছ শিকারের উৎসবে মেতেছে ঠাকুরগাঁওবাসী
এবার পুকুরের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক
রাতে চোখে ঘুম লেগে আসে পাহারাদারের, এই সুযোগেই ঘটে ‘সর্বনাশ’