মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ১১:১৬ এএম
‘শাট আপ! ইউ...’—রাগের মুহূর্তে অনেকের মুখ থেকেই হঠাৎ বেরিয়ে আসে ইংরেজি শব্দ। আবার গভীর আবেগ, আনন্দ কিংবা কষ্টের সময়ে ফিরে আসে নিজের মাতৃভাষা। বিষয়টি অনেকের কাছেই অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্ক ও অনুভূতির গভীর সম্পর্ক।
মনোবিদদের মতে, মানুষ কোন পরিস্থিতিতে কোন ভাষা ব্যবহার করবে, তা নির্ভর করে তার মস্তিষ্ক, অভ্যাস এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশের ওপর।
রাগের সময় কেন বিদেশি ভাষা আসে মুখে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা ছোটবেলা থেকে যে ভাষায় কথা বলি, সেটিই আমাদের আবেগের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত থাকে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ভাষা যেমন ইংরেজি আমরা সাধারণত বড় হয়ে শেখি। স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহারের কারণে এই ভাষার সঙ্গে তৈরি হয় কিছুটা দূরত্ব।
এই দূরত্বের কারণেই রাগের সময় অনেকের কাছে ইংরেজি একটি মানসিক ঢালের মতো কাজ করে। প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় নিজের দুর্বল অনুভূতি সরাসরি প্রকাশ করতে চায় না। তখন অন্য ভাষায় কথা বললে মনের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকে।
মাতৃভাষা কেন আবেগের ভাষা?
মাতৃভাষার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি হয় শৈশব থেকেই। মা-বাবার কথা, পরিবারের ভালোবাসা, ছোটবেলার স্মৃতি—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিজের ভাষা।
তাই মানুষ যখন খুব আনন্দিত হয়, কষ্ট পায় কিংবা আবেগে ভেসে যায়, তখন অজান্তেই নিজের সবচেয়ে পরিচিত ভাষার আশ্রয় নেয়। কারণ আবেগের মুহূর্তে মস্তিষ্ক অনেক সময় যুক্তির চেয়ে অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
অন্য ভাষা কি রাগ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক ভাষায় কথা বলা মানুষের ক্ষেত্রে এটি এক ধরনের মানসিক কৌশল হিসেবেও কাজ করতে পারে। অন্য ভাষায় কথা বলার সময় মস্তিষ্ককে শব্দ বেছে নিতে একটু বেশি ভাবতে হয়। এই সামান্য বিরতিই অনেক সময় রাগের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিচয় ও অনুভূতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি ভাষা অনেক সময় হয়ে ওঠে চিন্তা ও প্রকাশের মাধ্যম, আর মাতৃভাষা হয়ে ওঠে হৃদয়ের ভাষা। মানুষ যতই আধুনিক হোক না কেন, গভীর আবেগের মুহূর্তে সে ফিরে যায় নিজের শিকড়ের কাছে।
এটি শুধু একজনের গল্প নয়, বরং অনেক মানুষের মনের একটি স্বাভাবিক প্রবণতারই প্রকাশ।
আরটিভি/জেএমএ