ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট? হতে পারে হৃদরোগের নীরব সতর্কবার্তা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট? হতে পারে হৃদরোগের নীরব সতর্কবার্তা । ছবি: সংগৃহীত

সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে হঠাৎ হাঁপিয়ে উঠছেন? অল্প হাঁটলেই দম ফুরিয়ে যাচ্ছে? অনেকেই এমন সমস্যাকে ক্লান্তি, বয়স বা ওজন বৃদ্ধির স্বাভাবিক ফল বলে মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ মনে হওয়া শ্বাসকষ্টই হতে পারে হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে মানুষ সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন না। আগে যেখানে সহজেই সিঁড়ি ভেঙে ওঠা যেত, এখন সেখানে লিফটের প্রয়োজন হচ্ছে। আগে যে দূরত্ব অনায়াসে হাঁটা যেত, এখন তার আগেই দম ফুরিয়ে আসছে। এসব পরিবর্তনকে অবহেলা করা উচিত নয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের হৃদরোগ বা ফুসফুসজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

কেন হয় এমন শ্বাসকষ্ট?

চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

ধমনীতে বাধা:

হৃদপিণ্ডের ধমনীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল কমে গেলে শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হয়। ফলে শারীরিক পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

হৃদযন্ত্রের কপাটের সমস্যা:

হৃদযন্ত্রের কপাট ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি হয়। এতে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

হৃদস্পন্দনের অনিয়ম:

হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক না থাকলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।

হৃদপেশির দুর্বলতা:

হৃদযন্ত্রের পেশি দুর্বল হয়ে গেলে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত সরবরাহ করতে পারে না। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের লক্ষণ পুরুষ ও নারীদের ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে বুকব্যথার পরিবর্তে শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা বমি বমি ভাবই হৃদরোগের প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। তাই সামান্য উপসর্গও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিয়মিত কাজের সময় যদি আগের তুলনায় বেশি শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে—

১. হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে
২. ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে জেগে উঠলে
৩. শুয়ে থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
৪. ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে গেলে
৫. শরীরের সংকেতকে অবহেলা নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুর দিকেই সমস্যা শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা বা শ্বাসকষ্টকে বয়সের দোষ বলে উড়িয়ে না দিয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কারণ আপনার শ্বাসকষ্টই হয়তো জানিয়ে দিচ্ছে হৃদযন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো সমস্যার কথা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বছরে একবার করুন এই ৪ পরীক্ষা
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় যেসব খাবার
হাসপাতালে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুস জনিত রোগীর চাপ 
সিসা কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি