images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

গভীর ঘুম কমলেই বাড়তে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ১০:৪৯ এএম

সুস্থ থাকার জন্য ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। তবে শুধু কত ঘণ্টা ঘুমালেন, সেটিই সব নয়। ঘুম কতটা গভীর হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকদের দাবি, ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর গভীর ঘুমের পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশ কমে গেলেই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি জামা নিউরোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গভীর ঘুম কমে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও, তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গভীর ঘুম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

গভীর ঘুম হলো এমন একটি পর্যায়, যখন মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ধীর হয়ে আসে, হৃদস্পন্দন কমে যায় এবং শরীর নিজেকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে। একই সময়ে মস্তিষ্কে জমে থাকা ক্ষতিকর বর্জ্য ও ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রোটিনও পরিষ্কার হতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতিকর প্রোটিন দীর্ঘদিন জমে থাকলে ভবিষ্যতে আলঝাইমার্সসহ বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কীভাবে করা হয়েছিল গবেষণা?

গবেষণায় ৬০ বছরের বেশি বয়সি ৩৪৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৫ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে তাঁদের দুই দফা রাতভর ঘুমের পরীক্ষা করা হয়। এরপর প্রায় ১৭ বছর ধরে তাঁদের পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন
Web-Image

সন্তানের আশায় আইভিএফ চিকিৎসা শুরুর আগে জেনে নিন জরুরি তথ্য

এই সময়ের মধ্যে ৫২ জনের ডিমেনশিয়া ধরা পড়ে। বয়স, লিঙ্গ, ধূমপানের অভ্যাস, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহারের বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি বছর গভীর ঘুম ১ শতাংশ কমে গেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

গবেষণার প্রধান গবেষক, অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের টার্নার ইনস্টিটিউট ফর ব্রেন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ পাসে জানান, গভীর ঘুম বার্ধক্যজনিত মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দিতে এবং ক্ষতিকর প্রোটিন দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬০ বছরের পর কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর ঘুমের মান ভালো রাখতে কয়েকটি অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা।
  • মদ্যপান এড়িয়ে চলা।
  • শোয়ার ঘর ঠান্ডা, শান্ত ও অন্ধকার রাখা।
  • ঘুমের সময় শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বয়স বাড়ার সঙ্গে গভীর ঘুমের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভালো ও গভীর ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রামই দেয় না, মস্তিষ্ককেও দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


আরটিভি/জেএমএ