ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সন্তানের আশায় আইভিএফ চিকিৎসা শুরুর আগে জেনে নিন জরুরি তথ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
সন্তানের আশায় আইভিএফ চিকিৎসা শুরুর আগে জেনে নিন জরুরি তথ্য । ছবি: সংগৃহীত

সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেক দম্পতি। কিন্তু নানা শারীরিক কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না সবার। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের কাছেই আশার আলো হয়ে আসে কৃত্রিম প্রজনন চিকিৎসা (In Vitro Fertilization: IVF - আইভিএফ)। তবে এই চিকিৎসা শুরু করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের জন্য এই চিকিৎসা বিশ্বজুড়ে বহু পরিবারে নতুন আশা এনে দিয়েছে। তবে এটি ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং জটিল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই শুধু চিকিৎসা শুরু করলেই প্রথমবারেই সফলতা মিলবে— এমন ধারণা ঠিক নয়।

কীভাবে হয় এই চিকিৎসা?

এই চিকিৎসা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

প্রথমে হরমোনের মাধ্যমে নারীর ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করা হয়, যাতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ডিম্বাণু তৈরি হয়। এরপর একটি ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পরিপক্ব ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

পরে পরীক্ষাগারে ডিম্বাণুর সঙ্গে পুরুষের শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। কয়েক দিন পর সুস্থ ভ্রূণটি নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ অপেক্ষার পর পরীক্ষা করে জানা যায়, গর্ভধারণ সফল হয়েছে কি না।

আরও পড়ুন

প্রথমবারেই সফল হবে, এমন নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসা নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো প্রথম চেষ্টাতেই সফলতা মিলবে। বাস্তবে সফলতার হার নির্ভর করে বয়স, শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের ওপর।

বিশেষ করে ৩৫ বছরের কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে সফলতার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমে যায়। ফলে চিকিৎসাও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকরা বলছেন, ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে।

তাই চিকিৎসা শুরু করার অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি

এই চিকিৎসা শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও একটি বড় যাত্রা। হরমোনের পরিবর্তন, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং ব্যর্থতার আশঙ্কা অনেক দম্পতির মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করতে পারে।

এ কারণে চিকিৎসা শুরুর আগে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা পরামর্শকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসা বহু নিঃসন্তান দম্পতির জীবনে সুখের বার্তা নিয়ে এলেও এটি কোনো নিশ্চিত সমাধান নয়। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে এর সফলতা, সীমাবদ্ধতা, ব্যয় এবং মানসিক প্রস্তুতি— সব বিষয় সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনু্যায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
চালক-যাত্রীদের সহায়তায় বাসেই নারীর সন্তান প্রসব
একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম, চরম দুশ্চিন্তায় কল্পনা বেগম
১২ স্ত্রী, ১০২ সন্তান ও ৫৭৮ নাতি-নাতনি নিয়ে সংসার তার
সন্তান নেওয়া নিয়ে সামাজিক চাপে ভুগছেন?