সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০১:০০ পিএম
তীব্র তাপদাহে জনজীবন চরম অতিষ্ঠ । ঘরের বাইরে বের হলেই যেন আগুনের মতো তাপদাহ, আর ঘরে থাকলেও স্বস্তি নেই। এই চরম আবহাওয়ায় শরীর ও মন সতেজ রাখা এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। একটু অসাবধানতায় দেখা দিতে পারে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা পেটের গণ্ডগোলের মতো নানা স্বাস্থ্য সমস্যা।
এই গরমে সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী পরিবর্তন আনা জরুরি।
![]()
জেনে নিন এই গরমে নিজেকে ভালো রাখার কিছু দারুণ উপায়:
পানির কোনো বিকল্প নেই (হাইড্রেশন)
গরমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও খনিজ উপাদান ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তাই নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। তৃষ্ণা না পেলেও কিছুক্ষণ পর পর পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
প্রাকৃতিক পানীয়: ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ঘরে পাতা টকদইয়ের লাচ্ছি বা ঘোল শরীরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে।
এই সময় যা এড়িয়ে চলবেন: অতিরিক্ত চা, কফি, কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলো শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রেটেড বা পানি শূন্য করে তোলে।
খাবারের তালিকায় আনুন বদল
ভারী এবং তৈলাক্ত খাবার এই গরমে শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং হজমে সমস্যা করে।
হালকা খাবার: সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন: পাতলা ঝোল, সবজি ও ভাত খাবেন।
ফলমূল ও শাকসবজি: তরমুজ, শসা, বাঙি, আনারস, লাউ, ঝিঙের মতো জলীয় অংশ বেশি থাকা ফল ও সবজি বেশি করে খান।
বাসি খাবারকে ‘না’: গরমে খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও ফুড পয়জনিং এড়াতে সবসময় তাজা ও ফ্রেশ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

পোশাক ও সাজগোজ হোক আরামদায়ক
গরমে ফ্যাশনের চেয়ে আরামকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
ফেব্রিক নির্বাচন: সুতি বা লিনেনের মতো হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। এগুলো ঘাম শুষে নেয় এবং শরীরে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে।
রঙের ছোঁয়া: কালোর মতো গাঢ় রঙ তাপ শোষণ করে। তাই গরমে সাদা, অফ-হোয়াইট, আকাশি বা যেকোনো হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন।
রোদ থেকে বাঁচুন (রোদচশমা ও ছাতা)
প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের কড়া রোদে (বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা) বাইরে বের না হওয়াই ভালো। যদি বের হতেই হয়, তবে কিছু প্রস্তুতি রাখুন:
রোদ সুরক্ষাকবচ: বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা, সানগ্লাস (রোদচশমা) এবং ওড়না বা টুপি ব্যবহার করুন।
সানস্ক্রিন: ত্বকের সুরক্ষায় বাইরে বের হওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে অন্তত এসপিএফ ৩০+ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন মেখে নিন।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও বিশ্রাম
শরীর ঠাণ্ডা ও জীবাণুমুক্ত রাখতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই।
নিয়মিত গোসল: দিনে অন্তত একবার বা প্রয়োজনে দুবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করুন। তবে বাইরে থেকে ঘেমে এসেই সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খাওয়া বা গোসল করা যাবে না। কিছুক্ষণ ফ্যানের নিচে জিরিয়ে নিয়ে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তারপর পানি স্পর্শ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম: গরমের ক্লান্তির কারণে শরীর দ্রুত অবশ লাগে। তাই রাতে ৭-৮ ঘণ্টার নিশ্চিন্ত ঘুম শরীরকে রিচার্জ করতে সাহায্য করবে।
একটি জরুরি সতর্কতা (হিট স্ট্রোক):
প্রচণ্ড গরমে যদি মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত কোনো ঠাণ্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে চলে যান। চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শেষ কথা, প্রকৃতির নিয়মেই গরম আসবে, কিন্তু একটু সচেতনতা আর জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই দাবদাহেও নিজেকে সুস্থ ও ফুরফুরে রাখা সম্ভব। নিজে ভালো থাকুন, পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখুন!
আরটিভি/এসকে