ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শুক্রাণু বাড়াতে অনলাইনের নানা পদ্ধতি কতটা কার্যকর, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

পুরুষদের প্রজননক্ষমতা বা উর্বরতা নিয়ে আগ্রহ এবং উদ্বেগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষের উর্বরতা-সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগে শত কোটি ভিউ হওয়ার ঘটনা সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অনেক পরামর্শের পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামির ২৮ বছর বয়সী সাইমন এমনই একজন, যিনি ভবিষ্যতে নিজের প্রজননক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিদিন নানা ধরনের রুটিন অনুসরণ করেন। প্রতিদিন সকালে তিনি স্টিম বাথ নেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন, সূর্যালোক গ্রহণ করেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক ফিল্টার করা পানি পান করেন এবং সম্ভাব্য টক্সিন এড়াতে তুলার বক্সার ব্যবহার করেন।

অণ্ডকোষকে অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করতে তিনি বরফের প্যাকও ব্যবহার করেন। তার বিশ্বাস, এসব অভ্যাস শুক্রাণুর সংখ্যা ও কার্যকারিতা উন্নত রাখতে সহায়তা করে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বর্তমান তথ্য বলছে, এসব পদ্ধতি শুক্রাণুর মান বা সংখ্যা বাড়ায় এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

সাইমন জানান, তার এখনই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নেই এবং কোনো সঙ্গীও নেই। তবুও ভবিষ্যতের উর্বরতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি এসব অভ্যাস গড়ে তুলেছেন।

তিনি বলেন, কম উর্বরতা টেস্টোস্টেরন বা অন্যান্য হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি সতর্ক থাকতে চান।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। এন্ডোক্রাইন বা হরমোনজনিত সমস্যা শুক্রাণুর সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু কম উর্বরতা নিজে থেকে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বা এন্ডোক্রাইন কার্যকারিতা নষ্ট করে না।

বিশ্বজুড়ে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক পুরুষ বীর্য পরীক্ষা করাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (টিআরটি), স্টেরয়েডের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত টক্সিন নিয়ে উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব বিষয় উর্বরতার সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সুক্স মিনহাস বলেন, পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভয় ও উদ্বেগও যেন তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্বেগকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের পণ্য ও সাপ্লিমেন্ট বিক্রির একটি বড় বাজারও তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

সাইমনের মতো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই এসব বিষয়ে আগ্রহী হয়েছেন। তবে তিনি এখনো নিজের শুক্রাণুর পরীক্ষা করাননি এবং তার উর্বরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো চিকিৎসাগত কারণও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তান ধারণে সমস্যা না থাকলে বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন না হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি