images

লাইফস্টাইল

২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকলে শরীরে যা ঘটতে পারে

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৫:১৫ পিএম

টানা ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা সুস্থ জীবনযাপনের প্রবণতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এটি শরীরকে নতুন করে সতেজ করতে, ওজন কমাতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত করতে সক্ষম। খাবার থেকে বিরত থাকলে শরীরে অভ্যন্তরীণ অনেক পরিবর্তন ঘটে, বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকলে শরীরে কী ঘটে-

শরীর ধীরে ধীরে শক্তি পাওয়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করে। এর কারণ হলো, আপনার খাওয়া খাবার হজম হওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করে। তখন শরীর প্রথমে রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখার জন্য লিভারে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন নামক গ্লুকোজ ব্যবহার করে।

এরপরে এটি শক্তির জন্য সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে এবং কিটোন নামক পদার্থ তৈরি করে। একই সময়ে, সঞ্চিত শক্তি মুক্ত করতে সাহায্য করার জন্য গ্লুকাগনের মতো হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো সাধারণত ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, কিন্তু কেউ কেউ ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিরক্তি, মনোযোগের অভাব বা হালকা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন, বিশেষ করে যদি তারা না খেয়ে থাকায় অভ্যস্ত না হন।

বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দেয় না, কারণ যকৃত ক্রমাগত রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস রোগী, যারা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলা, শিশু, দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তি। এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া), ডিহাইড্রেশন বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন
sad-Web-Image

যেভাবে বানাবেন পাকা আমের পোয়া পিঠা

উপকারিতা ও ঝুঁকি

ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এ প্রকাশিত ফিজিওলজি, ফাস্টিং শিরোনামের একটি ২০২৩ সালের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে উপবাস শরীরে উল্লেখযোগ্য বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটায়। এতে না খেয়ে থাকার কিছু উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো ইনসুলিন সংবেদনশীলতার উন্নতি, যা মেটাবলিক সিনড্রোম এবং ডায়াবেটিস থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতি পদ্ধতি শরীরের চর্বি কমাতে, রক্তচাপ কমাতে এবং অ্যাথেরোজেনিক লিপিড হ্রাস করতে পারে। প্রাণিদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে এই অভ্যাস আলঝেইমার এবং পারকিনসন রোগের মতো স্নায়বিক ব্যাধির অগ্রগতি বিলম্বিত করতে পারে।

২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার এই রুটিনের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকে মাথাব্যথা অনুভব করতে পারেন, যা সম্ভবত হাইপোগ্লাইসেমিয়া, ডিহাইড্রেশন, ক্যাফেইন প্রত্যাহার বা প্রদাহজনক প্রক্রিয়ার কারণে হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কর্টিসলের মতো গ্লুকোকর্টিকয়েডের অতিরিক্ত সংস্পর্শের কারণ হতে পারে। এর ফলে পেশীক্ষয় এবং প্যারাডক্সিক্যাল ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হতে পারে। গবেষণাটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কম ওজনের, শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে উপবাসের নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। গবেষণাটিতে জোরালোভাবে সুপারিশ করা হয়েছে যে, ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার রুটিন সব সময় একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।

আরটিভি/এমএস