মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৪:০৮ পিএম
রান্নাঘরের অন্যতম পরিচিত উপাদান পেঁয়াজ শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণই বাড়ায় না, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্যও নানা ধরনের উপকার বয়ে আনতে পারে। এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। এ পরিমাণ কাঁচা পেঁয়াজ দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁয়াজে প্রায় ৪০ ক্যালোরি শক্তি, ৯.৩৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.১ গ্রাম প্রোটিন, ১.৭ গ্রাম খাদ্যআঁশ এবং ৭.৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। পাশাপাশি এতে রয়েছে কোয়ারসেটিন, ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যান্থোসায়ানিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন সি ও কোয়ারসেটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ফলে ঠান্ডা, ফ্লু এবং বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীর সহজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
এ ছাড়া পেঁয়াজে থাকা সালফার যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এতে হৃদ্রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা থাকে। একই সঙ্গে এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পেঁয়াজের কোয়ারসেটিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়। এর ফলে কোলন, স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারসহ কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
হজমের ক্ষেত্রেও কাঁচা পেঁয়াজ বেশ উপকারী। এতে থাকা খাদ্যআঁশ ও প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়, যা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অতিরিক্ত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে কিছু মানুষের গ্যাস, অম্বল বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে কাঁচা পেঁয়াজ খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
কাঁচা পেঁয়াজ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, তবে এটি কোনো রোগের ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা উচিত।
আরটিভি/এসকে