ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নীরবে ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধছে না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ফুসফুসে ক্যানসার। ছবি: সংগৃহীত

ফুসফুসের ক্যানসার বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যানসারের একটি। উদ্বেগের বিষয় হলো, রোগটির প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশি বা মৌসুমি অসুস্থতার সঙ্গে মিল থাকায় বেশিরভাগ মানুষ গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং চিকিৎসাও জটিল হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের ক্যানসার যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার সম্ভাবনা ততই বাড়ে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

দীর্ঘদিনের কাশি: সাধারণ সর্দি-কাশির কাশি সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে কাশি যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয়, ধীরে ধীরে বেড়ে যায় বা কাশি গভীর ও কর্কশ হয়ে ওঠে, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

বারবার ফুসফুসে সংক্রমণ: ঘনঘন নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিস হওয়া, বিশেষ করে ফুসফুসের একই অংশে বারবার সংক্রমণ দেখা দিলে তা ফুসফুসে টিউমারের ইঙ্গিত হতে পারে।

বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি: হালকা বুকব্যথা, চাপ অনুভব করা বা গভীর শ্বাস নেওয়া, কাশি দেওয়া কিংবা হাসার সময় ব্যথা বেড়ে গেলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। ফুসফুস বা আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

কণ্ঠস্বর পরিবর্তন: ঠান্ডা-জ্বরের কারণে সাময়িকভাবে গলা বসে যেতে পারে। তবে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বর কর্কশ থাকলে বা স্বাভাবিকের তুলনায় বদলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

শ্বাসকষ্ট: স্বাভাবিক হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা দৈনন্দিন কাজের সময় যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে, তাহলে এটি ফুসফুসের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

অকারণে ওজন কমে যাওয়া: খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি দ্রুত ওজন কমে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ক্যানসার কোষের কারণে শরীরের বিপাকক্রিয়া পরিবর্তিত হয়ে এমনটি ঘটতে পারে।

উল্লিখিত কোনো লক্ষণ দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকলে, কিংবা ধীরে ধীরে আরও তীব্র হলে দ্রুত একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের পরামর্শ দিতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেওয়াই রোগটি দ্রুত শনাক্ত ও সফল চিকিৎসার অন্যতম চাবিকাঠি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস
নীরবে বাড়ে ফুসফুসের ক্যান্সার, কারা করাবেন পরীক্ষা? 
ধূমপানে ফুসফুসের সর্বনাশ, বাঁচতে হলে এখনই নিন ৪ পদক্ষেপ
হাসপাতালে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুস জনিত রোগীর চাপ