শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ১২:০২ পিএম
দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, প্লাবিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায় নিরাপদ খাবার পানির অভাব। চারদিকে পানি থাকলেও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অনেক মানুষ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার সময় দূষিত পানি পান করলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ হতে পারে। তাই পানি বিশুদ্ধ করার সঠিক উপায় জানা খুবই জরুরি।
পানি বিশুদ্ধ করার সহজ উপায়:
পানি ফুটিয়ে নিন
বন্যার পানি ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে ওঠার পর আরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটিয়ে ব্যবহার করুন। এর বেশি সময় ফুটানো ঠিক নয়, এতে পানির গুণাগুণ কমে যেতে পারে।
পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট ব্যবহার করুন
ফুটানোর সুযোগ না থাকলে পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণভাবে তিন লিটার পানিতে একটি ট্যাবলেট মিশিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিলে পানি পানের উপযোগী হয়।
ফিটকিরি ব্যবহার করুন
এক কলসি পানিতে সামান্য ফিটকিরি মিশিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা রেখে দিন। ময়লা নিচে জমে গেলে ওপরের পরিষ্কার পানি আলাদা করে ব্যবহার করুন।
আয়োডিন ব্যবহার
এক লিটার পানিতে নির্ধারিত মাত্রার আয়োডিন মিশিয়েও পানি বিশুদ্ধ করা যায়। তবে এটি অবশ্যই সঠিক নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করতে হবে।
হ্যালোজেন ট্যাবলেট
তিন লিটার পানিতে একটি হ্যালোজেন ট্যাবলেট মিশিয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলে পানি বিশুদ্ধ হয়।
বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করুন
বৃষ্টি শুরুর প্রায় ১০ মিনিট পর পরিষ্কার পাত্রে সরাসরি আকাশ থেকে পড়া বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা যেতে পারে। তবে ছাদ বা গাছের পাতা বেয়ে পড়া পানি ব্যবহার করা উচিত নয়।
সূর্যের আলো ব্যবহার
পরিষ্কার বোতলে পানি ভরে কয়েক ঘণ্টা তীব্র রোদে রাখলেও অনেক জীবাণু ধ্বংস হয়। তবে এই পানি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ না করাই ভালো।
নিরাপদ পানি সংরক্ষণেও সতর্কতা
বিশুদ্ধ করা পানি পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত কাচ বা স্টিলের পাত্রে সংরক্ষণ করা ভালো। পানি খাওয়ার গ্লাস ও পাত্রও পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুটানো পানি দুই দিনের বেশি সংরক্ষণ না করাই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে শুধু পানি বিশুদ্ধ করাই নয়, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় পানি বিশুদ্ধ করার উপকরণ পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষকে সচেতন করা প্রয়োজন, যাতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।
আরটিভি/জেএমএ