images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ

আপনার প্রিয় ফলই হয়ে উঠতে পারে শরীরের জন্য ‘বিষ’!

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৫:০১ পিএম

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ফল খাওয়ার বিকল্প নেই। ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সব ফল সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ কিংবা আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) থাকলে কিছু ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

অনেকেই মনে করেন, ফলের প্রাকৃতিক চিনি ক্ষতিকর নয়। তবে বাস্তবে ফলেও ফ্রুক্টোজ নামে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা কিছু ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা আম, কাঁঠাল, পাকা কলা, লিচু, আঁতা, খেজুর ও কিসমিসে তুলনামূলক বেশি শর্করা থাকে। এসব ফল বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, জাম বা জামরুল খাওয়া যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ফলের ধরন ও পরিমাণ দুই দিকেই নজর রাখা জরুরি।

কিডনি দুর্বল হয়ে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ ঠিকভাবে বের হতে পারে না। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে কলা, ডাবের পানি, কমলালেবু, মালটা, আঙুর, আমড়া ও শুকনো ফল খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষভাবে কামরাঙা কিডনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে থাকা একটি বিষাক্ত উপাদান (কারামবক্সিন) কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, এমনকি প্রাণঘাতী জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। তাই কিডনি রোগীদের কামরাঙা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্ত্র অনেক বেশি সংবেদনশীল থাকে। ফলে কিছু ফল খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, তীব্র ব্যথা কিংবা বারবার পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আপেল, নাশপাতি, তরমুজ, চেরি, পিচ এবং অতিরিক্ত মিষ্টি ফল বা ফলের রস অনেক আইবিএস রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এসব ফলে থাকা কিছু শর্করা ও সুগার অ্যালকোহল সহজে হজম হয় না। এগুলোকে 'হাই-ফডম্যাপ' খাবার বলা হয়।

অন্যদিকে পাকা পেঁপে, পাকা কলা, ডালিম ও লেবুর রস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। এগুলো 'লো-ফডম্যাপ' খাবারের অন্তর্ভুক্ত, যা সাধারণত অন্ত্রে কম গ্যাস তৈরি করে।

আরও পড়ুন
image-304591-1734255432

নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মিলবে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা

ফল অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে কোনও নির্দিষ্ট রোগ থাকলে শুধু ‘উপকারী’ ভেবে ইচ্ছেমতো ফল খাওয়া উচিত নয়। রোগের ধরন, শারীরিক অবস্থা এবং পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে ফল নির্বাচন ও পরিমাণ নির্ধারণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরটিভি/এসকে