শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ০২:০০ পিএম
বর্ষাকালের ভ্যাপসা গরমে ঘাম হওয়া খুবই স্বাভাবিক। একটু রোদে বের হলেই বা রান্নাঘরে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। অনেকেই ঘামের দুর্গন্ধ ঢাকতে সুগন্ধি ব্যবহার করেন। তবে এর গন্ধ বেশিক্ষণ থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলেই সুগন্ধি ছাড়াই শরীরের দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
গোলাপজল হতে পারে সহজ সমাধান
গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে। ১০০ মিলি গোলাপজলের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ বিশুদ্ধ পানি মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। গোসলের পর বগল, ঘাড় ও হাঁটুর পেছনে ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় সতেজ অনুভূতি থাকবে।
ফিটকিরির ব্যবহারেও মিলবে উপকার
ফিটকিরি প্রাকৃতিকভাবে জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত ঘামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। গোসলের পর ভেজা ফিটকিরি বগল, ঘাড় বা পায়ের ভাঁজে হালকা করে ঘষে শুকিয়ে নিলেই উপকার পাওয়া যেতে পারে।
চন্দন গুঁড়ার প্রাকৃতিক সুবাস
চন্দন গুঁড়া ত্বকের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ সুবাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বেশি ঘাম হয় এমন স্থানে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
নিমপাতার জীবাণুনাশক গুণ
নিমপাতা শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে কার্যকর হতে পারে। এক মুঠ নিমপাতা দুই লিটার পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই পানি গোসলের পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং জীবাণুর বৃদ্ধি কমে।
অতিরিক্ত ঘাম কমাতে প্রাকৃতিক গুঁড়া
অর্ধেক কাপ অ্যারারুট গুঁড়ার সঙ্গে এক চা চামচ কর্নস্টার্চ ও এক টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া মিশিয়ে গোসলের পর শুকনো ত্বকে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষিত হয় এবং শরীর দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকে।
খাদ্যাভ্যাসেও রাখতে হবে নজর
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের দুর্গন্ধ শুধু বাইরের কারণে নয়, খাদ্যাভ্যাসের কারণেও বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রসুন, মদ্যপ পানীয়, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও বেশি চিনিযুক্ত পানীয় শরীরের গন্ধ বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, বেশি ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
সামান্য কিছু অভ্যাস বদল এবং কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের নিয়মিত ব্যবহারেই বর্ষার ভ্যাপসা গরমেও শরীরকে রাখা সম্ভব সতেজ ও দুর্গন্ধমুক্ত।
আরটিভি/জেএমএ