শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২০ পিএম
আকাশে কালো মেঘ। কখনো হালকা, কখনো মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজছে শহর। জানালার পাশে বসে তা দেখলেই কি আপনার মন খারাপ হয়ে যায়? মনে হয়, কোনো কিছুই ভালো লাগছে না? অথচ বৃষ্টির দিকে নজর যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তেও হয়ত আপনি ছিলেন চনমনে ও তরতাজা। কেন মুহূর্তের মধ্যে এমন মন খারাপ হয়ে যায়? সত্যি কি বৃষ্টির সঙ্গে অবসাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে? কীভাবে এই সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন।
কেন এমন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার সঙ্গে মানুষের মানসিক পরিস্থিতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিন মানুষের মনে ইতিবাচকতা জোগায়। অন্যদিকে, মেঘলা বা বাদলা দিন যেন খানিকটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই কারণে বর্ষায় অনেকেরই মন খারাপ হয়। কেউ কেউ অতিরিক্ত আত্মবিশ্লেষণ করতে গিয়ে কেবল নিজের ব্যর্থতাগুলো নিয়েই ভাবতে থাকেন। আবার কারো কারো মধ্যে এক ধরনের ঘুমঘোর কাজ করে। এমনকি চরম মানসিক অবসাদ থেকে কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নেন।
হরমোনের তারতম্য ও অবচেতন মনের কিছু ভাবনা এর পেছনে কাজ করে
হরমোনের প্রভাব : পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে তারতম্য ঘটে। ফলে অবসাদ ভর করে।
অহেতুক আশঙ্কা : কেউ কেউ অবচেতনে বর্ষার বৃষ্টি দেখে নানা আশঙ্কার কথা ভাবেন। যেমন—বন্যা বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা ভেবে আতঙ্কে ভোগেন। এই ভয় থেকেই জন্ম নেয় অবসাদ।
একঘেয়েমি : বৃষ্টির কারণে হয়ত বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না, সারাদিন ঘরেই বসে থাকতে হচ্ছে। এই অবরুদ্ধ দশা ও একঘেয়েমি থেকেও বিরক্তি এবং অবসাদ ঘিরে ধরে।
অবসাদ থেকে রেহাই পাওয়ার ৪ উপায়
উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করুন : বাইরে মেঘলা আবহাওয়া থাকলে ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত উজ্জ্বল আলো জ্বেলে রাখুন। ঘরের পরিবেশ আলোকিত থাকলে অবসাদ কিছুটা হলেও দূর হবে।
নিয়মিত শরীরচর্চা : মানসিক পরিস্থিতির উন্নতিতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। বৃষ্টির জন্য জিমে যেতে না পারলে ঘরে বসেই ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা ইয়োগা করতে পারেন।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন : মন খারাপকে প্রশ্রয় না দিয়ে পছন্দের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। গান শুনতে পারেন, গল্পের বই পড়তে পারেন কিংবা পছন্দের কোনো সিনেমা দেখতে পারেন। এতে অবসাদ আপনাকে সহজে কাবু করতে পারবে না।
পর্যাপ্ত ঘুম : বর্ষার এই সময়ে অনেকেই ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব অনুভব করেন। তাই শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে এই ঋতুতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন।
অবসাদ নিয়ে দিনের পর দিন পার করবেন না, এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ঘরোয়া এই উপায়গুলো অবলম্বন করার পরও যদি সুফল না পান, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ মনোবিদের পরামর্শ নিন।
আরটিভি/এমএস