ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস স্ক্রলিং করলে শরীরের যে ক্ষতি হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সারাক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ। একটুখানি অবসর পেলেই আঙুল চলতে থাকে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের রিলসের পাতায়। শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, এই তালিকায় এখন সমানভাবে নাম লিখিয়েছেন প্রবীণরাও। একা থাকার একঘেয়েমি কাটাতে স্মার্টফোনই এখন অনেকের প্রধান সঙ্গী। পঞ্চাশোর্ধ্ব বা তার চেয়ে বেশি বয়সী বাবা-মায়েরা আজকাল ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখছেন, কিংবা বুঁদ হয়ে থাকছেন অনলাইন লুডোর নেশায়। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ বিনোদন মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের কপালে কিন্তু এটি চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।

সব সময় ফোন ব্যবহার করা কি আসলেই ক্ষতিকর?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অবশ্য এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, কোনো প্রবীণ মানুষ ফোনে কিছুটা বেশি সময় কাটাচ্ছেন দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ব্যবহার তাদের মস্তিষ্কের জন্য ইতিবাচক ভূমিকাও রাখতে পারে। যেমন—দূর দূরান্তের আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে লুডো খেলা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত থাকা। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগ প্রবীণদের মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে এবং তাদের একাকীত্ব দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন

তাহলে মূল সমস্যাটি কোথায়?

মনোবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন ফোন ঘাঁটাই জীবনের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা রিলস বা শর্ট ভিডিও স্ক্রল করতে থাকা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। এই অভ্যাসের কারণে অনেকে বিকেলের নিয়মিত হাঁটাচলা বন্ধ করে দিচ্ছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিচ্ছেন এবং রাত জেগে ফোন ব্যবহার করছেন।

অনবরত রিলস দেখলে শরীরে ও মনে কী কী ঘটে?

অতিরিক্ত স্ক্রলিং ও রিলস দেখার আসক্তি প্রবীণদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক কুপ্রভাব ফেলে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা : দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে স্ক্রিন দেখার ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়, যা স্থূলতা বা হাড়ের জয়েন্টের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

ঘুমের দফারফা : স্ক্রিনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে রাতে সময়মতো ঘুম আসে না এবং অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়।

মনোযোগের ঘাটতি : মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের শর্ট ভিডিও ক্রমাগত দেখার কারণে কোনো গভীর বা দীর্ঘ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পায়।

মানসিক অবসাদ ও খিটখিটে ভাব : অনবরত ভিডিও দেখার পর সাময়িক আনন্দ মিললেও, দিনশেষে অবচেতন মনে এক ধরনের একাকীত্ব, শূন্যতা ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়।

প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন আসক্তিতে রূপ না নেয়। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তির বাইরে গিয়ে বই পড়া, গাছপালার যত্ন নেওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই শরীর ও মন সুস্থ রাখার একমাত্র উপায়।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৫৫   
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা
শরীয়তপুরে আড়াই বছর পর নড়িয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু