ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস স্ক্রলিং করলে শরীরের যে ক্ষতি হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:০৫ পিএম


ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস স্ক্রলিং করলে শরীরের যে ক্ষতি হয়
ছবি: সংগৃহীত

সারাক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ। একটুখানি অবসর পেলেই আঙুল চলতে থাকে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের রিলসের পাতায়। শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, এই তালিকায় এখন সমানভাবে নাম লিখিয়েছেন প্রবীণরাও। একা থাকার একঘেয়েমি কাটাতে স্মার্টফোনই এখন অনেকের প্রধান সঙ্গী। পঞ্চাশোর্ধ্ব বা তার চেয়ে বেশি বয়সী বাবা-মায়েরা আজকাল ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখছেন, কিংবা বুঁদ হয়ে থাকছেন অনলাইন লুডোর নেশায়। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ বিনোদন মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের কপালে কিন্তু এটি চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।

সব সময় ফোন ব্যবহার করা কি আসলেই ক্ষতিকর?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অবশ্য এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, কোনো প্রবীণ মানুষ ফোনে কিছুটা বেশি সময় কাটাচ্ছেন দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ব্যবহার তাদের মস্তিষ্কের জন্য ইতিবাচক ভূমিকাও রাখতে পারে। যেমন—দূর দূরান্তের আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে লুডো খেলা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত থাকা। এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগ প্রবীণদের মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে এবং তাদের একাকীত্ব দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন

তাহলে মূল সমস্যাটি কোথায়?

মনোবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন ফোন ঘাঁটাই জীবনের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা রিলস বা শর্ট ভিডিও স্ক্রল করতে থাকা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। এই অভ্যাসের কারণে অনেকে বিকেলের নিয়মিত হাঁটাচলা বন্ধ করে দিচ্ছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিচ্ছেন এবং রাত জেগে ফোন ব্যবহার করছেন।

অনবরত রিলস দেখলে শরীরে ও মনে কী কী ঘটে?

অতিরিক্ত স্ক্রলিং ও রিলস দেখার আসক্তি প্রবীণদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক কুপ্রভাব ফেলে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা : দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে স্ক্রিন দেখার ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়, যা স্থূলতা বা হাড়ের জয়েন্টের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

ঘুমের দফারফা : স্ক্রিনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে রাতে সময়মতো ঘুম আসে না এবং অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়।

মনোযোগের ঘাটতি : মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের শর্ট ভিডিও ক্রমাগত দেখার কারণে কোনো গভীর বা দীর্ঘ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পায়।

মানসিক অবসাদ ও খিটখিটে ভাব : অনবরত ভিডিও দেখার পর সাময়িক আনন্দ মিললেও, দিনশেষে অবচেতন মনে এক ধরনের একাকীত্ব, শূন্যতা ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়।

প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন আসক্তিতে রূপ না নেয়। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তির বাইরে গিয়ে বই পড়া, গাছপালার যত্ন নেওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই শরীর ও মন সুস্থ রাখার একমাত্র উপায়।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission