images

লাইফস্টাইল

যে শক্তি মানুষকে এগিয়ে নেয়, আজ আন্তর্জাতিক আশা দিবস

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ১২:১৪ পিএম

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামাজিক বিভাজনের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় একটি বিষয়—আশা। এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর ১২ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক আশা দিবস।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিবস ঘোষণা করেছে, যাতে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জীবনে আশাকে একটি ইতিবাচক ও পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা যায়।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জাতিসংঘ নিজেই আশার প্রতীক। তাই এই দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং সবার জন্য একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস?

জাতিসংঘের মতে, শান্তি, মর্যাদা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠায় আশার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিবস মানুষকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা বাড়ানো, ক্ষমাশীলতা চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে।

একই সঙ্গে সদস্য রাষ্ট্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, জনসেবামূলক উদ্যোগ এবং মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকাতেই কেন পরানো হয়

গবেষণা কী বলছে?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আশা শুধু একটি অনুভূতি নয়, এটি মানুষকে লক্ষ্য অর্জনের সাহস এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ খুঁজে নেওয়ার শক্তি দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ তুলনামূলক কম থাকে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা মেনে চলার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ মানসিক অবস্থার জন্য আশাবাদী মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মানুষকে চাপ মোকাবিলা, উৎপাদনশীল জীবনযাপন এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।

টেকসই উন্নয়নেও আশার ভূমিকা

জাতিসংঘের মতে, আশা টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আশা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ায়, কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সাহস জোগায় এবং পরিবেশ রক্ষার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করে।

কীভাবে পালন করা যায়?

আন্তর্জাতিক আশা দিবসে ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করা, কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রবীণ প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া, স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশ নেওয়া কিংবা শিশু-কিশোরদের আশা ও ইতিবাচক চিন্তার গুরুত্ব শেখানো—এসব উদ্যোগই এই দিবসের মূল বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, এটি সমাজকে একত্রিত করার শক্তি। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, হতাশার পরিবর্তে সাহস এবং অনিশ্চয়তার পরিবর্তে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাতেই প্রতি বছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক আশা দিবস।


আরটিভি/জেএমএ