ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকাতেই কেন পরানো হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকাতেই কেন পরানো হয় । ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে বা বাগদানের অন্যতম প্রধান মুহূর্ত হলো আংটি পরানো। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, কেন এই আংটি সাধারণত বাঁ হাতের অনামিকাতেই পরানো হয়? তর্জনী, মধ্যমা বা কনিষ্ঠা নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, প্রাচীন বিশ্বাস এবং ভালোবাসার এক বিশেষ প্রতীকী অর্থ।

ইতিহাসবিদদের মতে, বিয়ের আংটি পরানোর রীতি শুরু হয়েছিল প্রাচীন মিশরে। সে সময় নলখাগড়া ও গাছের আঁশ দিয়ে গোলাকার আংটি তৈরি করা হতো। মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, বৃত্তের যেমন শুরু বা শেষ নেই, তেমনি সত্যিকারের ভালোবাসাও চিরন্তন। তাই আংটিকে তারা অনন্ত প্রেম, বিশ্বাস এবং আজীবনের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখতেন।

পরে এই প্রথা রোমান সভ্যতায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে একটি বিশেষ বিশ্বাস। রোমানদের ধারণা ছিল, বাঁ হাতের অনামিকা থেকে একটি বিশেষ শিরা সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে মিলেছে। তারা এই শিরার নাম দিয়েছিল ‘ভালোবাসার শিরা’। হৃদয়ের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই এই আঙুলে আংটি পরানোর রীতি চালু হয়।

আরও পড়ুন

তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মানবদেহে এমন কোনো আলাদা শিরার অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ এটি বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়, বরং বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি বিশ্বাস। তবুও এই রীতি আজও টিকে আছে, কারণ আংটি শুধু অলংকার নয়, এটি ভালোবাসা, বিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি এবং একসঙ্গে পথ চলার প্রতীক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আংটির গুরুত্ব নির্দিষ্ট কোনো আঙুলে নয়, বরং এর প্রতীকী অর্থে। বিভিন্ন সমাজ নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী এই রীতিকে গ্রহণ করেছে।

তবে সারা পৃথিবীতে একই নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। পশ্চিমের অনেক দেশে বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরানো হলেও জার্মানি, রাশিয়া, পোল্যান্ড ও নরওয়েসহ কয়েকটি দেশে ডান হাতের অনামিকাতেই বিয়ের আংটি পরানোর প্রচলন রয়েছে। কোথাও ধর্মীয় বিশ্বাস, কোথাও আবার স্থানীয় সংস্কৃতির কারণে এই পার্থক্য দেখা যায়।

বর্তমানে অনেকেই ব্যক্তিগত পছন্দ, সুবিধা বা রুচি অনুযায়ী যে কোনো হাতেই আংটি পরেন। তবুও বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরানোর এই প্রথা আজও মানুষের কাছে ভালোবাসা, আস্থা এবং আজীবনের বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক হয়ে রয়েছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
কেন অনামিকাতেই পরানো হয় বিয়ের আংটি
আঙুল মটকানো ভালো না খারাপ? কী বলছে গবেষণা
তাসবিহ গোনা আঙুলই হবে কিয়ামতে সাক্ষী
আমিরের বিয়ের আংটি ১৩১ কারিগর কত ঘণ্টায় বানিয়েছেন