ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকাতেই কেন পরানো হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
বিয়ের আংটি বাঁ হাতের অনামিকাতেই কেন পরানো হয় । ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে বা বাগদানের অন্যতম প্রধান মুহূর্ত হলো আংটি পরানো। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, কেন এই আংটি সাধারণত বাঁ হাতের অনামিকাতেই পরানো হয়? তর্জনী, মধ্যমা বা কনিষ্ঠা নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, প্রাচীন বিশ্বাস এবং ভালোবাসার এক বিশেষ প্রতীকী অর্থ।

ইতিহাসবিদদের মতে, বিয়ের আংটি পরানোর রীতি শুরু হয়েছিল প্রাচীন মিশরে। সে সময় নলখাগড়া ও গাছের আঁশ দিয়ে গোলাকার আংটি তৈরি করা হতো। মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, বৃত্তের যেমন শুরু বা শেষ নেই, তেমনি সত্যিকারের ভালোবাসাও চিরন্তন। তাই আংটিকে তারা অনন্ত প্রেম, বিশ্বাস এবং আজীবনের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখতেন।

পরে এই প্রথা রোমান সভ্যতায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে একটি বিশেষ বিশ্বাস। রোমানদের ধারণা ছিল, বাঁ হাতের অনামিকা থেকে একটি বিশেষ শিরা সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে মিলেছে। তারা এই শিরার নাম দিয়েছিল ‘ভালোবাসার শিরা’। হৃদয়ের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই এই আঙুলে আংটি পরানোর রীতি চালু হয়।

আরও পড়ুন

তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মানবদেহে এমন কোনো আলাদা শিরার অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ এটি বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়, বরং বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি বিশ্বাস। তবুও এই রীতি আজও টিকে আছে, কারণ আংটি শুধু অলংকার নয়, এটি ভালোবাসা, বিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি এবং একসঙ্গে পথ চলার প্রতীক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আংটির গুরুত্ব নির্দিষ্ট কোনো আঙুলে নয়, বরং এর প্রতীকী অর্থে। বিভিন্ন সমাজ নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী এই রীতিকে গ্রহণ করেছে।

তবে সারা পৃথিবীতে একই নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। পশ্চিমের অনেক দেশে বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরানো হলেও জার্মানি, রাশিয়া, পোল্যান্ড ও নরওয়েসহ কয়েকটি দেশে ডান হাতের অনামিকাতেই বিয়ের আংটি পরানোর প্রচলন রয়েছে। কোথাও ধর্মীয় বিশ্বাস, কোথাও আবার স্থানীয় সংস্কৃতির কারণে এই পার্থক্য দেখা যায়।

বর্তমানে অনেকেই ব্যক্তিগত পছন্দ, সুবিধা বা রুচি অনুযায়ী যে কোনো হাতেই আংটি পরেন। তবুও বাঁ হাতের অনামিকায় বিয়ের আংটি পরানোর এই প্রথা আজও মানুষের কাছে ভালোবাসা, আস্থা এবং আজীবনের বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক হয়ে রয়েছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
কেন অনামিকাতেই পরানো হয় বিয়ের আংটি
আঙুল মটকানো ভালো না খারাপ? কী বলছে গবেষণা
তাসবিহ গোনা আঙুলই হবে কিয়ামতে সাক্ষী
আমিরের বিয়ের আংটি ১৩১ কারিগর কত ঘণ্টায় বানিয়েছেন