images

লাইফস্টাইল / পরামর্শ

বন্যায় বোবা প্রাণীদের নীরব আর্তনাদ, এখনই যা করা জরুরি

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩৯ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যায় মানুষ যেমন ঘরবাড়ি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে, তেমনি সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছে গৃহপালিত পশু, পাখি ও রাস্তার প্রাণীরা। হঠাৎ পানিবন্দি হয়ে পড়া এসব বোবা প্রাণী নিজেদের নিরাপদ স্থানে নিতে পারে না, খাবার বা বিশুদ্ধ পানি জোগাড় করতে পারে না, এমনকি বিপদের কথা কাউকে জানাতেও পারে না। তাই বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদের জীবন রক্ষায়ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম কাজ নিরাপদ আশ্রয়

বন্যার সময় প্রাণীদের দ্রুত উঁচু ও শুকনো স্থানে সরিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গরু, ছাগল, ভেড়া বা হাঁস-মুরগিকে মাচা, উঁচু বাঁধ, স্কুলের মাঠ, নৌকা বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার কুকুর ও বিড়ালের জন্যও উঁচু ছাদ, বারান্দা বা শুকনো কোনো কোণে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা দরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবাদিপশুকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা বন্যার সময় অত্যন্ত বিপজ্জনক। পানির উচ্চতা বাড়লে তারা সরে যেতে পারে না এবং ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বন্যার সময় পশুগুলোকে মুক্তভাবে নিরাপদ স্থানে থাকার সুযোগ দিতে হবে।

খাদ্যের ব্যবস্থা আগে থেকেই

বন্যার সময় ঘাস ও স্বাভাবিক খাদ্য পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই গবাদিপশুর জন্য খড়, ভুসি, দানাদার খাবার ও শুকনো খাদ্য আগে থেকেই সংরক্ষণ করে উঁচু ও শুকনো স্থানে রাখতে হবে। কাঁচা ঘাস না পাওয়া গেলে কলাগাছ, কাঁঠাল পাতা বা অন্যান্য নিরাপদ গাছের পাতা বিকল্প খাদ্য হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।

রাস্তার কুকুর ও বিড়ালের জন্য শুকনো বিস্কুট, ভাত, মাছের টুকরো বা সহজপাচ্য খাবার উঁচু জায়গায় রেখে আসা যেতে পারে। তবে খাবার এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে খেতে পারে এবং পানিতে ভেসে না যায়।

আরও পড়ুন
Web-Image

কম খরচে যেসব শুকনো খাবারে শরীরে মিলবে শক্তি 

বিশুদ্ধ পানি সবচেয়ে জরুরি

বন্যার সময় প্রাণীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। দূষিত পানি পান করলে ডায়রিয়া, পেটের অসুখ ও বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রাণীদের জন্য ফুটানো, বিশুদ্ধ বা নিরাপদ উৎসের পানি সরবরাহ করতে হবে। সম্ভব হলে আলাদা পাত্রে পরিষ্কার পানি রেখে দিতে হবে, যাতে তারা সহজে পান করতে পারে।

রোগবালাই প্রতিরোধে সতর্কতা

বন্যার পানিতে দীর্ঘ সময় থাকলে গবাদিপশুর খুরের রোগ, ক্ষুরারোগ, তড়কা, বাদলা বা পেটের অসুখ হতে পারে। প্রাণীদের শরীরে জ্বর, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, পেট খারাপ বা হাঁটতে অসুবিধা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস, কৃষি তথ্য সার্ভিস বা নিকটস্থ পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক প্রাণীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

রাস্তার প্রাণীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে

বন্যার সময় রাস্তার প্রাণীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়ে পড়ে। তারা খাবার, আশ্রয় ও নিরাপদ স্থান থেকে বঞ্চিত হয়। তাই স্থানীয় মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের উচিত তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা। ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগও অনেক প্রাণীর জীবন বাঁচাতে পারে।

সম্মিলিত উদ্যোগই পারে প্রাণ বাঁচাতে

দুর্যোগের সময়ে মানুষ ও প্রাণী উভয়ই প্রকৃতির কাছে অসহায়। তাই বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রাণী উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রাণিপ্রেমীদের সমন্বিত উদ্যোগে গৃহপালিত পশু, পাখি ও রাস্তার প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বোবা প্রাণীদের বাঁচানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষারও অংশ। তাই বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


আরটিভি/জেএমএ