মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪৯ এএম
ব্যস্ত জীবনে এমন একটি সকালের নাস্তা অনেকেই খোঁজেন, যা একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর এবং খুব সহজে তৈরি করা যায়। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাতে ভিজিয়ে রাখা ওটস। আগের রাতে দুধ বা টক দইয়ের সঙ্গে ওটস ভিজিয়ে রেখে সকালে তাতে ফল, বাদাম কিংবা বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই তৈরি হয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন সকালে এই খাবার খাওয়া কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে তৈরি করলে রাতে ভিজিয়ে রাখা ওটস একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা হতে পারে। নিয়মিত খেলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে।
হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে
ওটসে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় আঁশ থাকে, যার মধ্যে বিটা-গ্লুকান অন্যতম। এই আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ সহজ করে। ফলে নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে এবং হজমশক্তিও উন্নত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ওটস অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।
দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে
অনেকেরই সকালের নাস্তার কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা লাগে। তবে ওটস ধীরে ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকে। এতে বারবার অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটস সরাসরি ওজন কমায় না। তবে এটি দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখায় অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াও সচল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এতে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি সিরাপ, চকলেট বা বেশি পরিমাণ শুকনো ফল মেশালে ক্যালোরি বেড়ে যায়। তখন উপকারের বদলে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
ওটস ধীরে ধীরে হজম হওয়ায় খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। এ কারণে এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী সকালের নাস্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ওটসে অতিরিক্ত মধু, চিনি বা মিষ্টি সিরাপ না মেশানোই ভালো। এতে এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অক্ষুণ্ন থাকে।
ভিজিয়ে রাখা নাকি রান্না করা—কোনটি ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিজিয়ে রাখা ও রান্না করা—দুই ধরনের ওটসের পুষ্টিগুণ প্রায় একই। তবে রাতে ভিজিয়ে রাখলে ওটস নরম হয়ে যায়, ফলে অনেকের জন্য এটি সহজে হজম হয়।
এছাড়া দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে ওটসে থাকা কিছু উপাদানের পরিমাণ কমে যায়, ফলে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ আরও সহজে গ্রহণ করতে পারে।
যেভাবে তৈরি করলে উপকার বেশি
পুষ্টিবিদরা রোল করা ওটস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এতে দুধ বা চিনি ছাড়া টক দই মিশিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। সকালে এর সঙ্গে কলা, আপেল, আম বা মৌসুমি ফল যোগ করা যায়।
এছাড়া কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ, তিসির বীজ বা কুমড়ার বীজ মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। সামান্য দারুচিনির গুঁড়াও স্বাদ ও উপকারিতা বাড়াতে পারে।
তবে অতিরিক্ত মিষ্টি দই, চকলেট, সুগন্ধি সিরাপ বা বেশি পরিমাণ শুকনো ফল ব্যবহার না করাই ভালো বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে সঠিক উপায়ে তৈরি করা ওটস খেলে হজম ভালো রাখা, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো বিভিন্ন উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা প্রয়োজন।
আরটিভি/জেএমএ