মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০১:১৮ পিএম
প্রতিদিনের খাবারে মুরগির মাংস অন্যতম প্রধান প্রোটিনের উৎস। তবে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে—দেশি মুরগি নাকি পোল্ট্রি বা ব্রয়লার, কোনটি বেশি পুষ্টিকর? পুষ্টিবিদদের মতে, দুটি মুরগির মাংসই শরীরের জন্য উপকারী। তবে কিছু পুষ্টিগুণের দিক থেকে দেশি মুরগি সামান্য এগিয়ে থাকলেও নিরাপদ উৎসের পোল্ট্রি বা ব্রয়লারও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
পুষ্টিবিদরা জানান, মুরগির খাবার, পালন পদ্ধতি ও পরিবেশের কারণে পুষ্টিগুণে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। তাই কোন মুরগির মাংস বেশি উপকারী, তা নির্ভর করে এসব বিষয়ের ওপরও।
পুষ্টিবিদরা বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা ব্রয়লার মুরগির মাংসে ক্যালোরি ১৬৫ থেকে ১৯০, প্রোটিন ২৭ থেকে ৩১ গ্রাম এবং চর্বি ৭ থেকে ১২ গ্রাম থাকে। অন্যদিকে একই পরিমাণ দেশি মুরগির মাংসে ক্যালোরি ১৪০ থেকে ১৭০, প্রোটিন ২৫ থেকে ২৯ গ্রাম এবং চর্বি ৪ থেকে ৮ গ্রাম থাকে। এ ছাড়া দেশি মুরগিতে লোহা, ভিটামিন বি–১২ ও ওমেগা–৩ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, দুটি মুরগির মাংসেই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। তবে দেশি মুরগি ধীরে বড় হয় এবং বেশি চলাফেরা করায় এর পেশি ঘন হয়। ফলে কিছু ক্ষেত্রে এর প্রোটিনের গুণগত মান সামান্য ভালো হতে পারে। এটি পেশি গঠন, ক্ষত সারানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
হার্টের স্বাস্থ্যের দিক থেকেও দেশি মুরগি কিছুটা এগিয়ে। এতে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং উপকারী ওমেগা–৩ বেশি থাকায় খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীরের প্রদাহ হ্রাসে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি চামড়াসহ খেলে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।
দেশি মুরগিতে লোহা ও জিঙ্কও কিছুটা বেশি থাকতে পারে। এসব উপাদান রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে চামিলি জান্নাত বলেন, বাণিজ্যিক ব্রয়লার খামারে অতীতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হলেও বর্তমানে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় তা অনেকটাই সীমিত। নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালিত খামারের ব্রয়লার মুরগি স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে দেশি মুরগি সাধারণত প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হওয়ায় অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
মুরগির মাংস স্বাস্থ্যকরভাবে খাওয়ার জন্য তিনি কয়েকটি পরামর্শও দিয়েছেন। তার মতে, মুরগির চামড়া বাদ দিয়ে খাওয়া উচিত। রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে সবজি ও পূর্ণ শস্যের সঙ্গে মুরগির মাংস খাওয়া ভালো। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এটি প্রোটিনের উৎস হিসেবে রাখা যেতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্য, বাজেট ও সহজলভ্যতার বিষয় বিবেচনায় রেখে দেশি বা ব্রয়লার—দুটির যেকোনো একটি বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে কম চর্বি, বেশি লোহা ও ওমেগা–৩ থাকার কারণে দেশি মুরগি পুষ্টিগতভাবে কিছুটা এগিয়ে। তবুও নিরাপদ উৎসের ব্রয়লারও সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সঠিকভাবে রান্না করে এবং চামড়া বাদ দিয়ে খেলে উভয় ধরনের মুরগির মাংসই স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
আরটিভি/জেএমএ