বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেকেরই স্বপ্ন। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ আর নতুন সম্ভাবনার হাতছানি শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত করে। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি অনেকেই ভোগেন একাকিত্ব, ঘরছাড়া কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অজানা এক ভয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি খুবই স্বাভাবিক একটি মানসিক অভিজ্ঞতা এবং সঠিকভাবে সামলাতে পারলে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বিদেশে যাওয়ার পর পরিচিত মানুষ, পরিবার, ভাষা ও দৈনন্দিন পরিবেশ থেকে দূরে থাকার কারণে অনেকের মনেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। অসুস্থ হলে কী হবে, মন খারাপ হলে কার সঙ্গে কথা বলবেন কিংবা প্রয়োজনের সময় পাশে কে থাকবে—এমন নানা প্রশ্ন থেকেই একাকিত্বের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।
অনেক সময় হঠাৎ করে মায়ের রান্নার গন্ধ, সন্ধ্যার পরিচিত পরিবেশ কিংবা নিজের বাড়ির নানা স্মৃতি মনে পড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এগুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং নিজের শেকড়ের প্রতি স্বাভাবিক টান। তবে যখন এই স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের একাকিত্বের তুলনা শুরু হয়, তখন মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া এক দেশ থেকে আরেক দেশে গেলেই জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পরিবহন ব্যবস্থা, আবহাওয়া, বাজার কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপনে পার্থক্য থাকতে পারে। এসব নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরুতে অনেকেরই অস্বস্তি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে থেকে অনেককে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও বাস্তবে বিদেশে থাকা অনেক শিক্ষার্থীই একই ধরনের একাকিত্ব অনুভব করেন। কিন্তু সবাই বিষয়টি প্রকাশ করেন না বলেই অনেকের মনে হয়, শুধু তিনিই এই সমস্যায় ভুগছেন। অথচ এটি বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের খুবই সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা।
এমন পরিস্থিতিতে ভয়কে অস্বীকার না করে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিজের কাছে প্রশ্ন করা দরকার—আসলে কী বেশি অনুভব করছেন? পরিবারের অভাব, পরিচিত পরিবেশের অভাব, নাকি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা? কারণ সমস্যাটি বুঝতে পারলেই তার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
মানসিকভাবে ভালো থাকতে বিদেশে নিজের জন্য নতুন একটি দৈনন্দিন অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত হাঁটা, নিজের পছন্দের খাবার রান্না করা, নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা মানসিক স্থিরতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে অতীতের স্মৃতিতে ডুবে না থেকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একা থাকা মানেই একা হয়ে যাওয়া নয়। বরং এই সময়টি নিজেকে নতুনভাবে জানার এবং মানসিকভাবে আরও শক্ত হওয়ার সুযোগ। ভয়, ঘরছাড়া কষ্ট কিংবা মন খারাপ—এসব অনুভূতি বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে অস্বাভাবিক নয়। ধীরে ধীরে এই অভিজ্ঞতাই মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
তাদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; এটি মানসিকভাবে পরিণত হওয়ারও একটি দীর্ঘ যাত্রা। তাই শুরুতে একাকিত্ব বা ভয় অনুভব করলে সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়ে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ



