বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:১০ এএম
ইলিশ শুধু বাঙালির প্রিয় মাছই নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাদ্যাভ্যাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পয়লা বৈশাখসহ নানা উৎসবে কিংবা ইলিশের মুখরোচক স্বাদ নিতে এর উপস্থিতি যেন অপরিহার্য। তবে শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও ইলিশকে অন্যতম সেরা মাছ হিসেবে বিবেচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে পাওয়া মাছগুলোর মধ্যে ইলিশে পুষ্টিগুণের পরিমাণ অন্যতম বেশি। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান।
প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ৩১০ ক্যালরি, ২২ গ্রাম প্রোটিন এবং ১৯ দশমিক ৫ গ্রাম চর্বি থাকে। তবে এই চর্বির বড় অংশই শরীরের জন্য উপকারী। ইলিশে ক্ষতিকর চর্বি কম থাকলেও উপকারী ওমেগা-৩ চর্বি বেশি থাকে, যা হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশে থাকা ওমেগা-৩ চর্বি রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা কমাতে এবং উপকারী চর্বি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ থাকে, পাশাপাশি হৃদ্রোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও কমতে পারে।
ইলিশ নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরে রক্ত চলাচল ভালো থাকে। এতে হৃদ্রোগ, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
এই মাছে থাকা উপকারী চর্বি হাড় ও গিঁটের বিভিন্ন সমস্যাতেও উপকার করে। বিশেষ করে বয়সজনিত গিঁটের ব্যথা ও বাতের সমস্যায় এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
ইলিশে থাকা ভিটামিন এ চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া ওমেগা-৩ চর্বি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইলিশ উপকারী। এতে থাকা ওমেগা-৩ চর্বি মন খারাপ, অবসাদ এবং সন্তান জন্মের পর মায়েদের বিষণ্নতা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইলিশে থাকা এল-আরজিনিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের মাংসপেশি ও বিভিন্ন টিস্যু গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা কোলাজেনসমৃদ্ধ প্রোটিন কোষের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
ত্বকের যত্নেও ইলিশের ভূমিকা রয়েছে। এতে থাকা ভিটামিন সি ও কোলাজেন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ইলিশ রাখা যেতে পারে। তবে যাদের বিশেষ শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাছ খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।
স্বাদ, ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণ—সব মিলিয়ে ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, এটি হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরটিভি/জেএমএ