মাংস শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, দস্তা, ভিটামিন বি-১২সহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং বেশি চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পরিমাণ বুঝে মাংস খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
কেন মাংস খাবেন?
মাংস শরীরের পেশি গঠন, রক্ত তৈরিতে সহায়তা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণেও সাহায্য করে। তবে শুধু মাংসের ওপর নির্ভর না করে মাছ, ডিম, ডাল ও শিমজাতীয় খাবার থেকেও প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।
লাল মাংস কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন রান্না করা অবস্থায় লাল বা প্রক্রিয়াজাত মাংসের পরিমাণ ৭০ গ্রামের বেশি না রাখাই ভালো। যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে লাল মাংস খান, তাদের ধীরে ধীরে পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের ঝুঁকি
অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া অনেক প্রক্রিয়াজাত মাংসে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়ায়।
চর্বিযুক্ত মাংস কম খাওয়া কেন জরুরি?
চর্বিযুক্ত মাংসে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। তাই কম চর্বিযুক্ত মাংস বেছে নেওয়াই ভালো।
কলিজা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
কলিজায় আয়রনের পাশাপাশি প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন এ দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে হাড়ের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বেশি পরিমাণে কলিজা না খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। গর্ভবতী নারীদের কলিজা ও কলিজাজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
গর্ভাবস্থায় মাংস খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় মাংস খাওয়া নিরাপদ হলেও অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করা থাকতে হবে। কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মাংস খাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে কলিজা ও কলিজাজাত খাবার এ সময় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মাংস কেনা ও রান্নার সময় যা করবেন
মাংস কেনার সময় কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নিন। রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি ও চামড়া ফেলে দিন। ভাজার পরিবর্তে গ্রিল বা ঝলসিয়ে রান্না করা স্বাস্থ্যকর। রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই ভালো। চাইলে মাংসের সঙ্গে বেশি পরিমাণে সবজি ও ডাল যোগ করে রান্না করলে খাবার আরও পুষ্টিকর হয়।
নিরাপদে সংরক্ষণ ও রান্না জরুরি
কাঁচা মাংস সবসময় ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন এবং রান্না করা খাবার থেকে আলাদা রাখুন। মাংস রান্নার আগে ধোয়ার পরিবর্তে ভালোভাবে রান্না করাই নিরাপদ, কারণ ধোয়ার সময় জীবাণু চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মুরগির মাংস, গরুর মাংস, খাসির মাংস, কিমা, সসেজ, কাবাব ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংস অবশ্যই সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খেতে হবে। রান্নার পর মাংসের ভেতরে গোলাপি অংশ বা রক্তের মতো তরল থাকা উচিত নয়।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংস খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নেওয়া, প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খাওয়া এবং নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করার অভ্যাস গড়ে তুললেই স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি ও ফলও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
আরটিভি/জেএমএ



