বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫০ এএম
বর্ষাকালে বৃষ্টির সঙ্গে যেমন স্বস্তি আসে, তেমনি অনেকের জন্য শুরু হয় শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও হাঁচির সমস্যা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের শ্বাসনালির রোগে (হাঁপানি বা অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও সিওপিডি) আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সময়টি বেশি কষ্টের হতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হয়, ফলে শ্বাস নিতে সমস্যা বাড়ে। পাশাপাশি অ্যালার্জি ও অন্যান্য কারণে শ্বাসনালির মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হতে পারে।
এই সময়ে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই সর্দি-কাশি, বুকে সাঁ সাঁ শব্দ বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বিষয়টি অবহেলা না করে সতর্ক থাকা জরুরি।
যতটা সম্ভব ঘরেই থাকুন
বর্ষার সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। তবে ঘরের পরিবেশও হতে হবে পরিষ্কার ও শুকনো। স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে থাকলে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। আবার ধুলাবালি জমলেও সমস্যা দেখা দেয়। তাই নিয়মিত ঘর পরিষ্কার রাখা এবং আর্দ্রতা কমানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পুরোনো, পরিত্যক্ত বা অতিরিক্ত স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা এড়িয়ে চলাও জরুরি।
সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন
বর্ষাকালে সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ খুবই সাধারণ। তবে এই সংক্রমণ শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ঠান্ডা লাগা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। পরিবারের বা আশপাশের কারও জ্বর-সর্দি থাকলে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন। বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং খাবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।
খাবারের দিকেও নজর দিন
প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর খাদ্য রাখুন। স্বাস্থ্যকর খাবার শ্বাসনালির প্রদাহ কমাতে এবং শ্বাসযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এ সময় ঠান্ডা খাবার ও ঠান্ডা পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।
চিকিৎসা বন্ধ করবেন না
যারা নিয়মিত শ্বাসকষ্টের ওষুধ বা শ্বাসের ওষুধ ব্যবহার করেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না। প্রয়োজন হলে নিয়মিত ওষুধ ও শ্বাসের যন্ত্র ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে।
বর্ষাকালে সামান্য অসতর্কতাও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা, সংক্রমণ এড়িয়ে চলা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এই মৌসুমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আরটিভি/জেএমএ