images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসেই বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি, আজই সতর্ক হোন

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৩:১২ পিএম

স্ট্রোক এমন একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মুহূর্তেই মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে যায়। ফলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেকেই স্থায়ী শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন।

তবে স্বস্তির খবর হলো, বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৮০ শতাংশ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। শুধু স্ট্রোক নয়, এসব অভ্যাস হৃদরোগসহ আরও অনেক রোগের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি

অতিরিক্ত ওজন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন সুষম খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরি।

খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, মাছ এবং স্বাস্থ্যকর তেল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি চিনি ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কম খেতে হবে।

শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও একবারে বেশি নয়, ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। প্রতিদিন হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান

উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরের ক্ষতি করতে থাকে। তাই সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

আরও পড়ুন
snake

আজ বিশ্ব সাপ দিবস

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ অনিদ্রা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলেও ধূমপান করলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি থেকেই যায়।

এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দে সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এসব অভ্যাস এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনে রাখুন

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এর সাধারণ লক্ষণগুলো সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা উচিত। যেমন—

১. হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া
২. হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
৩. মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা অবশ হয়ে পড়া
৪. এক হাত দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
৫. কথা বলতে বা কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া

এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণদেরও হতে পারে। তাই বয়স যাই হোক না কেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখাই স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


আরটিভি/জেএমএ