শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২০ এএম
অনেকেই মনে করেন, বর্ষাকালে শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। কারণ এ সময় তেষ্টা কম লাগে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা ভুল। বর্ষাতেও শরীরে পানির ঘাটতি বা পানিশূন্যতা হতে পারে। সময়মতো সতর্ক না হলে এর প্রভাব কিডনির ওপরও পড়তে পারে।
কেন হয় শরীরে পানির ঘাটতি?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হলেও তা সহজে বোঝা যায় না। এ ছাড়া ডায়রিয়া, বমি কিংবা মৌসুমি ভাইরাসজনিত অসুস্থতার কারণেও শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু তেষ্টা কম লাগার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। ফলে ধীরে ধীরে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়।
কিডনির ওপর কী প্রভাব পড়ে?
কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে শরীর থেকে বের করে দেওয়া এবং শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য ঠিক রাখা। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। তখন শরীর মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্রে বেশি রক্ত সরবরাহ করে। ফলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে।
এর কারণে হঠাৎ কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি প্রস্রাব ঘন হয়ে গেলে কিডনিতে পাথর এবং মূত্রনালির সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বাইরে কাজ করেন এমন মানুষ, খেলোয়াড়, দীর্ঘ সময় যাতায়াত করেন যাঁরা এবং জ্বর, ডায়রিয়া বা বমিতে ভুগছেন— তাঁদের শরীরে পানির ঘাটতির ঝুঁকি বেশি।
এছাড়া যাঁরা পানি কম পান করে বারবার চা, কফি বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় পান করেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
বর্ষাকালে তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস রাখতে হবে। শুধু পানি নয়, শরীরের খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে মাঠা বা লাচ্ছি, অল্প লবণ মেশানো লেবুর পানি এবং ডাবের পানিও পান করা যেতে পারে।
এছাড়া প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকলে সাধারণত বোঝা যায়, শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক আছে। তাই বৃষ্টি হচ্ছে বলে পানি পান কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে পর্যাপ্ত পানি পান করাই শরীর ও কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়।
আরটিভি/জেএমএ