images

লাইফস্টাইল

মায়ের পর সবচেয়ে বেশি আদর কি খালার কাছ থেকেই পাওয়া যায় 

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫১ এএম

খালা, আম্মুকে কিন্তু বলো না—এই কথাটি বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবারের খুব পরিচিত একটি বাক্য। পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া, ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, নতুন কোনো শখে টাকা খরচ করা কিংবা প্রথম ভালো লাগার গল্প—এমন অনেক বিষয় আছে, যা অনেকেই মাকে বলতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু খালাকে বলতে দ্বিধা করেন না।

বাংলা পরিবারের অন্যতম সুন্দর সম্পর্কগুলোর একটি হলো খালা ও ভাগনে-ভাগনির সম্পর্ক। তিনি যেমন পরিবারের একজন, তেমনি অনেক সময় হয়ে ওঠেন সবচেয়ে কাছের বন্ধু। বড়দের মতো দায়িত্বশীল হলেও ছোটদের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা থাকে তার। তাই শৈশবের অসংখ্য সুন্দর স্মৃতিতে খালার উপস্থিতি থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।

অনেকের কাছেই খালার বাসা মানেই আনন্দ, ছুটি আর নির্ভার সময়। খালাতো ভাইবোনদের সঙ্গে খেলাধুলা, একসঙ্গে খাওয়া, বিকেলের আড্ডা কিংবা গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়া—এসব স্মৃতি বড় হওয়ার পরও মনে রয়ে যায়। সেই সময়গুলোই হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি।

খালার হাতের রান্নার কথাও অনেকের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়। মায়ের রান্নার সঙ্গে তুলনা নয়, তবে একই খাবারও যেন খালার বাসায় অন্যরকম স্বাদ নিয়ে আসে। কারণ সেই খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, সময় আর শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি।

আরও পড়ুন
Web-Image

অতিরিক্ত মানসিক চাপেই কী বাড়ছে মাইগ্রেন? জেনে নিন বাঁচার উপায় 

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খালার সঙ্গে সম্পর্কের ধরনও বদলে যায়। ছোটবেলায় যিনি চকলেট কিনে দিতেন, তিনিই একসময় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেওয়ার মানুষ হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরি, বিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত কোনো দুশ্চিন্তা—অনেকেই এসব বিষয়ে খালার সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ তিনি বিচার করার আগে মন দিয়ে কথা শোনেন।

পরিবারের নানা খবরও অনেক সময় সবার আগে জানেন খালারা। কে কেমন আছে, কার মন খারাপ, কার নতুন সাফল্য—এসব খবর জানার পর ফোন করে খোঁজ নেওয়া, খেয়েছেন কি না বা শরীর ভালো আছে কি না জানতে চাওয়া যেন তাদের স্বভাবেরই অংশ।

এখন পরিবারের অনেক সদস্য দূরে বা দেশের বাইরে থাকলেও খালার সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা কমে না। জন্মদিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা হঠাৎ একটি ফোনকল বা ভিডিও কলে তার মুখ দেখলেই ফিরে আসে আপনজনের সেই পরিচিত অনুভূতি।

ছোটবেলার দুষ্টুমি, কৈশোরের জেদ থেকে শুরু করে বড় হওয়ার সংগ্রাম—সবকিছুরই নীরব সাক্ষী থাকেন একজন খালা। মা রাগ করলে অনেক সময় তিনিই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় সমর্থন। আবার প্রয়োজন হলে শাসনও করেন, তবে ভালোবাসা দিয়ে।

হয়তো সে কারণেই মায়ের পর সবচেয়ে বেশি আদর, ভরসা আর নির্ভরতার কথা উঠলে অনেকের মনেই প্রথমে ভেসে ওঠে একজন খালার মুখ। সময়ের সঙ্গে অনেক সম্পর্ক বদলে গেলেও খালার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শৈশবের সেই উষ্ণ স্মৃতিগুলো খুব সহজে ফিকে হয় না।


আরটিভি/জেএমএ