অতিরিক্ত মানসিক চাপেই কী বাড়ছে মাইগ্রেন? জেনে নিন বাঁচার উপায় 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৮ এএম


অতিরিক্ত মানসিক চাপেই কী বাড়ছে মাইগ্রেন? জেনে নিন বাঁচার উপায় 
অতিরিক্ত মানসিক চাপেই কী বাড়ছে মাইগ্রেন? জেনে নিন বাঁচার উপায়  । ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ মাথার একপাশে তীব্র ধুকপুক করা ব্যথা, সঙ্গে বমি বমি ভাব, আলো বা শব্দ সহ্য না হওয়া— এসবই মাইগ্রেনের পরিচিত লক্ষণ। অনেকেই মনে করেন এটি সাধারণ মাথাব্যথা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইগ্রেন একটি স্নায়ুতন্ত্র-সম্পর্কিত সমস্যা, যার অন্যতম সাধারণ কারণ হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেনে আক্রান্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, মানসিক চাপ তাদের মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান উদ্দীপক। শুধু চাপের সময়ই নয়, দীর্ঘদিনের চাপ কমে যাওয়ার পরও অনেকের মাইগ্রেনের সমস্যা শুরু হতে পারে।

কেন মানসিক চাপ মাইগ্রেন বাড়ায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইগ্রেনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা না গেলেও মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা কিছু উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মানসিক চাপ সেই পরিবর্তনকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

মাইগ্রেন হলে কী করবেন?

মাইগ্রেনের চিকিৎসায় সাধারণত দুটি বিষয় গুরুত্ব পায়। একটি হলো ব্যথা কমানো, অন্যটি ভবিষ্যতে মাইগ্রেনের আক্রমণ কমিয়ে আনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ যদি মাইগ্রেনের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে চাপ কমানোর উপায় খুঁজে বের করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা প্রতিরোধমূলক ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন

কখন প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার প্রয়োজন?

চিকিৎসকেরা সাধারণত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার পরামর্শ দেন যদি—

১. সপ্তাহে তিনবার বা তার বেশি ব্যথার ওষুধ খেতে হয়।
২. সাধারণ ওষুধে ব্যথা কমে না।
৩. মাইগ্রেনের কারণে কাজ, পড়াশোনা বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

এ ধরনের ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মাইগ্রেনের আক্রমণের সংখ্যা, তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কমানো সম্ভব হতে পারে।

মানসিক চাপ কমানোই হতে পারে বড় সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অনেকের মাইগ্রেনের আক্রমণ কমে যেতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম, শরীরচর্চা, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী হতে পারে।

তবে বারবার তীব্র মাথাব্যথা হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইগ্রেনকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে এর তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission