রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৪৭ এএম
দুপুরে এক প্লেট ভাত খাওয়ার পর অনেকেরই চোখে ঘুম নেমে আসে। অফিসে, বাসায় কিংবা ছুটির দিনে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই শরীর যেন বিশ্রাম চাইতে শুরু করে। অনেকেই মনে করেন, এর জন্য শুধু ভাতই দায়ী। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ভাতের পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, খাবারের পরিমাণ এবং খাদ্যাভ্যাসও এর জন্য দায়ী।
ভাত খাওয়ার পর কেন ঘুম পায়?
ভাতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে। এই শর্করা শরীরে গিয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এরপর শরীর থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিনের প্রভাবে মস্তিষ্কে ট্রিপটোফ্যান নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড সহজে প্রবেশ করে। এটি থেকে তৈরি হয় সেরোটোনিন ও পরে মেলাটোনিন, যা শরীরকে শান্ত করে এবং ঘুমের অনুভূতি বাড়াতে সাহায্য করে।
শুধু ভাত নয়, বেশি খেলেও আসে ঘুম
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভাত নয়, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেলেও তন্দ্রাভাব দেখা দিতে পারে। কারণ, বেশি খাবার হজম করতে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এ সময় পাকস্থলী ও অন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। ফলে অনেকের ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব অনুভূত হতে পারে।
দুপুরে ঘুম বেশি আসে কেন?
মানুষের শরীরে একটি প্রাকৃতিক জৈবিক ছন্দ কাজ করে। সাধারণত দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরের সতর্কতা কিছুটা কমে যায়। এই সময় ভারী খাবার খেলে ঘুমের প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
সাদা ভাতে তন্দ্রাভাব বেশি হতে পারে
সাদা চালের ভাত দ্রুত হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায়। ফলে ইনসুলিনও দ্রুত নিঃসৃত হয়, যা অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমঘুম ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে লাল চাল বা আঁশযুক্ত চাল ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। তাই এগুলো খেলে অনেকের তন্দ্রাভাব তুলনামূলক কম হতে পারে।
ভাতের সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
ভাতের সঙ্গে বেশি তেল-চর্বিযুক্ত, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেলে শরীরে অলসতা আরও বাড়তে পারে। তবে ভাতের সঙ্গে ডাল, মাছ, মুরগি, শাকসবজি ও সালাদ রাখলে খাবারটি সুষম হয় এবং অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব কিছুটা কমতে পারে।
১. ভাত খাওয়ার পর ঘুম এড়াতে যা করবেন
২. একবারে বেশি ভাত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খান।
৩. ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও শাকসবজি রাখুন।
৪. খাওয়ার পর ৫ থেকে ১০ মিনিট হাঁটুন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৬. রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
সবার কি ভাত খেলে ঘুম আসে?
না। এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। বয়স, শরীরের বিপাকক্রিয়া, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুমের মান এবং ডায়াবেটিসের মতো শারীরিক অবস্থাও এতে প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত খাওয়ার পর ঘুম আসা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এর জন্য শুধু ভাতকে দায়ী করা ঠিক নয়। বরং শর্করা, ইনসুলিনের কার্যক্রম, শরীরের জৈবিক ছন্দ, খাবারের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার অভ্যাস—সবকিছু মিলিয়েই এই তন্দ্রাভাব তৈরি হয়। তাই পরিমিত ও সুষম খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলে ভাত খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ