গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয় কেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২৭ এএম


গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয় কেন
গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে কী কী পরীক্ষা জরুরি এবং কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন, প্রথম তিন মাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ।  ছবি: সংগৃহীত

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস মা ও গর্ভের শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ই শিশুর শরীরের প্রায় সব অঙ্গের গঠন শুরু হয়। অনেকের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে গর্ভধারণের তেমন লক্ষণ না দেখা গেলেও শরীরের ভেতরে দ্রুত পরিবর্তন চলতে থাকে। তাই শুরু থেকেই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম তিন মাসে কী কী পরিবর্তন হয়?

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • স্তনে ব্যথা বা ফোলা অনুভব করা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • বারবার প্রস্রাবের চাপ
  • মেজাজের পরিবর্তন
  • ত্বকে ব্রণ বা অন্যান্য পরিবর্তন
  • সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই হাঁপিয়ে যাওয়া

সব গর্ভবতীর ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে।

আরও পড়ুন

 

শিশুর বৃদ্ধি কীভাবে হয়?

গর্ভধারণের শুরু থেকেই শিশুর বৃদ্ধি দ্রুত শুরু হয়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, হৃদ্‌যন্ত্র, প্লাসেন্টা ও নাভির নাড়ির গঠন শুরু হয়।

ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, হাত-পা, কানসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো তৈরি হতে থাকে। এ সময় অনেক ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুর হৃদ্‌স্পন্দনও দেখা যায়।

নয় থেকে বারো সপ্তাহের মধ্যে হাত-পায়ের আঙুল, নখ, পরিপাকতন্ত্র ও মূত্রতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। শিশুর হাত-পা নড়াচড়াও শুরু হয়। তিন মাস শেষে শিশুর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন থেকে চার ইঞ্চি হয়।

প্রথম তিন মাসে কী কী পরীক্ষা প্রয়োজন?

গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

এই সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী করা হতে পারে—

  • রক্তচাপ ও ওজন পরীক্ষা
  • রক্ত পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • আল্ট্রাসনোগ্রাম
  • প্রয়োজন হলে জরায়ুর পরীক্ষা
  • সংক্রমণ শনাক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা

এসব পরীক্ষার মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সুস্থ থাকতে যা করবেন

প্রথম তিন মাসে কিছু বিষয় মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১. নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ গর্ভকালীন ভিটামিন গ্রহণ করুন।
৩. পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
৬. শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

গর্ভাবস্থায় কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

  • ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য
  • মদ্যপান
  • মাদক
  • কাঁচা বা আধা সেদ্ধ মাছ-মাংস
  • অপাস্তুরিত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার
  • অতিরিক্ত গরম পানির টব বা বাষ্পস্নান
  • পেটে আঘাত লাগতে পারে এমন খেলাধুলা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

গর্ভাবস্থায় নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—

  • অতিরিক্ত রক্তপাত
  • অস্বাভাবিক স্রাব
  • তীব্র পেটব্যথা
  • বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • ঝাপসা দেখা

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে নিয়মিত চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই গর্ভধারণের খবর জানার পর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

সূত্র: মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ, আমেরিকান প্রেগন্যান্সি অ্যাসোসিয়েশন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission