ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয় কেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে কী কী পরীক্ষা জরুরি এবং কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন, প্রথম তিন মাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ।  ছবি: সংগৃহীত

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস মা ও গর্ভের শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ই শিশুর শরীরের প্রায় সব অঙ্গের গঠন শুরু হয়। অনেকের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে গর্ভধারণের তেমন লক্ষণ না দেখা গেলেও শরীরের ভেতরে দ্রুত পরিবর্তন চলতে থাকে। তাই শুরু থেকেই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম তিন মাসে কী কী পরিবর্তন হয়?

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • স্তনে ব্যথা বা ফোলা অনুভব করা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • বারবার প্রস্রাবের চাপ
  • মেজাজের পরিবর্তন
  • ত্বকে ব্রণ বা অন্যান্য পরিবর্তন
  • সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই হাঁপিয়ে যাওয়া

সব গর্ভবতীর ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে।

আরও পড়ুন

শিশুর বৃদ্ধি কীভাবে হয়?

গর্ভধারণের শুরু থেকেই শিশুর বৃদ্ধি দ্রুত শুরু হয়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, হৃদ্‌যন্ত্র, প্লাসেন্টা ও নাভির নাড়ির গঠন শুরু হয়।

ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, হাত-পা, কানসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো তৈরি হতে থাকে। এ সময় অনেক ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুর হৃদ্‌স্পন্দনও দেখা যায়।

নয় থেকে বারো সপ্তাহের মধ্যে হাত-পায়ের আঙুল, নখ, পরিপাকতন্ত্র ও মূত্রতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। শিশুর হাত-পা নড়াচড়াও শুরু হয়। তিন মাস শেষে শিশুর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন থেকে চার ইঞ্চি হয়।

প্রথম তিন মাসে কী কী পরীক্ষা প্রয়োজন?

গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

এই সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী করা হতে পারে—

  • রক্তচাপ ও ওজন পরীক্ষা
  • রক্ত পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • আল্ট্রাসনোগ্রাম
  • প্রয়োজন হলে জরায়ুর পরীক্ষা
  • সংক্রমণ শনাক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা

এসব পরীক্ষার মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সুস্থ থাকতে যা করবেন

প্রথম তিন মাসে কিছু বিষয় মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১. নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ গর্ভকালীন ভিটামিন গ্রহণ করুন।
৩. পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
৬. শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

গর্ভাবস্থায় কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

  • ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য
  • মদ্যপান
  • মাদক
  • কাঁচা বা আধা সেদ্ধ মাছ-মাংস
  • অপাস্তুরিত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার
  • অতিরিক্ত গরম পানির টব বা বাষ্পস্নান
  • পেটে আঘাত লাগতে পারে এমন খেলাধুলা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

গর্ভাবস্থায় নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—

  • অতিরিক্ত রক্তপাত
  • অস্বাভাবিক স্রাব
  • তীব্র পেটব্যথা
  • বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • ঝাপসা দেখা

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে নিয়মিত চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই গর্ভধারণের খবর জানার পর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ, আমেরিকান প্রেগন্যান্সি অ্যাসোসিয়েশন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
গর্ভধারণের আগে কফি নিয়ে যে বিষয়টি জানা জরুরি
ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ বাংলাদেশেও, তবে চাইলেই কি করা যায়?
গর্ভধারণে ব্যর্থতা থাইরয়েডের সমস্যার জন্যও হতে পারে
কিশোরী বয়সে গর্ভধারণে যেসব ঝুঁকি রয়েছে