মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৮ এএম
অনেকের পছন্দের সবজি, আবার অনেকেই পটল খেতে চান না। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, পটল শুধু একটি সাধারণ সবজি নয়, এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পটল রাখলে হজমশক্তি ভালো থাকা থেকে শুরু করে হৃদ্যন্ত্র, লিভার, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত পটল খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। তবে শুধু পটল খেলেই সুস্থ থাকা সম্ভব—এমন ধারণা ঠিক নয়।
পটলে যেসব পুষ্টি রয়েছে
পটল কম ক্যালরিযুক্ত হলেও এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, খাদ্য আঁশ এবং নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে
গরমের সময় শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে পটল উপকারী। এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
হজম ভালো রাখে
পটলে থাকা খাদ্য আঁশ হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি গ্যাস, অম্বল, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
কম ক্যালরি ও কম চর্বিযুক্ত হওয়ায় পটল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
পটলের শর্করার মাত্রা কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী একটি সবজি।

ত্বক ও চোখের যত্ন নেয়
ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পটল ত্বক সতেজ রাখতে এবং চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকিও কমাতে পারে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
পটলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।
লিভার ও হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী
পটল লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে।
কিডনি, চুল ও নখের যত্নে সহায়ক
পটল শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য বের হতে সাহায্য করে, যা কিডনির জন্য উপকারী। এছাড়া এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান চুল মজবুত রাখতে এবং নখ শক্ত করতে সহায়তা করে।
রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে পারে
পটলে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পটল থাকলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, পটলের সর্বোচ্চ উপকার পেতে অতিরিক্ত তেল-মসলা ব্যবহার না করে হালকা রান্না বা সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো। এতে এর পুষ্টিগুণও অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে।
আরটিভি/জেএমএ