images

লাইফস্টাইল / পরামর্শ

স্ত্রীর আয় বেশি হলেই কি দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়ে

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ১২:২৬ পিএম

সময়ের সঙ্গে বদলেছে সংসারের চিত্র। এখন অনেক পরিবারেই স্বামী-স্ত্রী দুজনই উপার্জন করেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীর আয় স্বামীর চেয়েও বেশি। তবে এই পরিবর্তন শুধু আর্থিক নয়, দাম্পত্য সম্পর্কেও নতুন কিছু প্রশ্ন ও বাস্তবতা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ত্রীর বেশি আয় কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন সম্পর্কের মধ্যে তুলনা, অহংকার বা আত্মসম্মানের সংকট জায়গা করে নেয়। অনেক পুরুষ ছোটবেলা থেকেই শুনে বড় হন যে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হতে হবে। তাই স্ত্রীর বেশি আয় অনেকের কাছে মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন প্রজন্মের অনেক দম্পতি এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছেন। তারা সম্পর্ককে সমান অংশীদারত্বের জায়গা থেকে দেখছেন। ফলে কে বেশি আয় করছেন, তার চেয়ে সংসার কীভাবে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়ের পার্থক্য নয়, সমস্যার মূল কারণ হলো ভুল ধারণা। যখন সংসারে কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বা কার সিদ্ধান্ত শেষ কথা—এমন মানসিকতা তৈরি হয়, তখনই সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হতে পারে। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image

মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়া’ রোগ চিনবেন যেভাবে

এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা আলোচনা খুবই জরুরি। সংসারের দায়িত্ব, খরচ, সঞ্চয় কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব বিষয়ে দুজনের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কে বেশি আয় করছেন, তার ভিত্তিতে নয়; বরং সময়, দক্ষতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন বেশি আয় করলেও অন্যজনের অবদান কখনো ছোট হয়ে যায় না। সংসার পরিচালনা, মানসিক সমর্থন, পারিবারিক দায়িত্ব পালন—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আয়কে মানুষের মূল্য নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি ভাবা উচিত নয়।

বর্তমানে অনেক পরিবারেই স্ত্রী স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করছেন। এটি আর ব্যতিক্রম নয়, বরং সমাজের পরিবর্তিত বাস্তবতা। তবে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হলে প্রয়োজন পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং সমতার মানসিকতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্যে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো একসঙ্গে পথ চলার মানসিকতা। সেখানে কার আয় বেশি, সেটি নয়; বরং দুজন মিলে ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছাই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তোলে।


আরটিভি/জেএমএ