ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়া’ রোগ চিনবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে যত ভুল ধারণা । ছবি: সংগৃহীত

মানসিক অসুস্থতা নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো খোলাখুলি আলোচনা খুব কম হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগকে রোগ হিসেবে না দেখে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। অথচ সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক মানসিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তেমনই একটি জটিল মানসিক রোগ হলো সিজোফ্রেনিয়া।

এক সন্তানের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ছোটবেলায় তার মাকে অন্য সবার মতোই স্বাভাবিক মনে হতো। পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ছিলেন খুবই সচেতন। তবে মাঝেমধ্যে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ করতেন, যার বাস্তব কোনো ভিত্তি ছিল না। ধীরে ধীরে তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।

পরিবারের এক কঠিন সময়ের পর তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, অদৃশ্য কোনো শক্তি তাদের ক্ষতি করছে। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় একা একা কথা বলতেন, নিজের সঙ্গে নিজেই আলোচনা করতেন, কখনো গান গাইতেন, আবার কখনো এমন কিছু দেখার কথা বলতেন, যা অন্য কেউ দেখতে পেত না।

আরও পড়ুন

পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেকেই বিষয়টিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় উপায়ে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরে চিকিৎসকের পরামর্শে জানা যায়, তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিজোফ্রেনিয়া এমন একটি মানসিক রোগ, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি অবাস্তব বিষয়কে বাস্তব বলে বিশ্বাস করতে পারেন। অনেক সময় তিনি এমন শব্দ শুনতে পান বা এমন কিছু দেখেন, যা বাস্তবে থাকে না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, অদৃশ্য কেউ তাদের নির্দেশ দিচ্ছে। তবে রোগীর উপসর্গ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

পরিবারের অভিজ্ঞতায় জানা যায়, রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ এবং পরিবারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় একা থাকলে অনেকের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। তাই রোগীর পাশে থাকা, তার কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, সিজোফ্রেনিয়ার এখনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ সেবন এবং মানসিক সহায়তার মাধ্যমে রোগী দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে রোগের উপসর্গ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিজোফ্রেনিয়াকে জিন, অতিপ্রাকৃত শক্তি বা কুসংস্কারের সঙ্গে না জড়িয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। সময়মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে রোগী ও তাঁর পরিবারের কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা এবং ভুল ধারণার কারণে এখনো অনেক পরিবার মানসিক রোগ লুকিয়ে রাখে। অথচ এই নীরব অসুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
জাপানে ঘরবন্দী লাখো মানুষ, কেন ঘর থেকে বের হতে চান না তারা?
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মানসিক রোগ, আক্রান্ত ১২০ কোটি মানুষ
শুচিবায়ু কী শুধু অভ্যাস? নাকি লুকিয়ে থাকা মানসিক রোগ
অতিরিক্ত রেগে যাওয়া কি আসলেই একটি রোগ?