ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়া’ রোগ চিনবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে যত ভুল ধারণা । ছবি: সংগৃহীত

মানসিক অসুস্থতা নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো খোলাখুলি আলোচনা খুব কম হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগকে রোগ হিসেবে না দেখে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। অথচ সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক মানসিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তেমনই একটি জটিল মানসিক রোগ হলো সিজোফ্রেনিয়া।

এক সন্তানের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ছোটবেলায় তার মাকে অন্য সবার মতোই স্বাভাবিক মনে হতো। পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ছিলেন খুবই সচেতন। তবে মাঝেমধ্যে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ করতেন, যার বাস্তব কোনো ভিত্তি ছিল না। ধীরে ধীরে তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।

পরিবারের এক কঠিন সময়ের পর তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, অদৃশ্য কোনো শক্তি তাদের ক্ষতি করছে। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় একা একা কথা বলতেন, নিজের সঙ্গে নিজেই আলোচনা করতেন, কখনো গান গাইতেন, আবার কখনো এমন কিছু দেখার কথা বলতেন, যা অন্য কেউ দেখতে পেত না।

আরও পড়ুন

পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেকেই বিষয়টিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় উপায়ে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরে চিকিৎসকের পরামর্শে জানা যায়, তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিজোফ্রেনিয়া এমন একটি মানসিক রোগ, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি অবাস্তব বিষয়কে বাস্তব বলে বিশ্বাস করতে পারেন। অনেক সময় তিনি এমন শব্দ শুনতে পান বা এমন কিছু দেখেন, যা বাস্তবে থাকে না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, অদৃশ্য কেউ তাদের নির্দেশ দিচ্ছে। তবে রোগীর উপসর্গ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

পরিবারের অভিজ্ঞতায় জানা যায়, রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ এবং পরিবারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় একা থাকলে অনেকের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। তাই রোগীর পাশে থাকা, তার কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, সিজোফ্রেনিয়ার এখনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ সেবন এবং মানসিক সহায়তার মাধ্যমে রোগী দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে রোগের উপসর্গ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিজোফ্রেনিয়াকে জিন, অতিপ্রাকৃত শক্তি বা কুসংস্কারের সঙ্গে না জড়িয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। সময়মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে রোগী ও তাঁর পরিবারের কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা এবং ভুল ধারণার কারণে এখনো অনেক পরিবার মানসিক রোগ লুকিয়ে রাখে। অথচ এই নীরব অসুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়া কিংবা নিজের ইচ্ছায় মাথা ন্যাড়া করা যে কারণেই হোক, টাক মাথা নিয়ে সংকোচের কিছু নেই।
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
আজ বিশ্ব মান দিবস / ভেজালের ভিড়ে মানের অঙ্গীকার
খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান, নিম্নমানের পণ্য, ওজনে কারচুপি—বাজারে এসব অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়।
ভেজালের ভিড়ে মানের অঙ্গীকার
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
মোবাইল ফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ থেকে শুরু করে কাজ ও বিনোদন সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে এর ব্যবহার।
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
শিশুদের ক্যানসারের ৭ লক্ষণ, যা সহজেই এড়িয়ে যান অভিভাবকরা
শিশুদের শরীরে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো মনে হতে পারে। ফলে অভিভাবকদের পক্ষে শুরুতেই রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিশুদের ক্যানসারের ৭ লক্ষণ, যা সহজেই এড়িয়ে যান অভিভাবকরা
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
প্রচণ্ড রোদে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সুস্থ থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়।
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
আরও পড়ুন
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মানসিক রোগ, আক্রান্ত ১২০ কোটি মানুষ
শুচিবায়ু কী শুধু অভ্যাস? নাকি লুকিয়ে থাকা মানসিক রোগ
অতিরিক্ত রেগে যাওয়া কি আসলেই একটি রোগ?