images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

সুগার ফ্রি মিষ্টি খেলে কী হয় জানেন?

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ১২:১১ পিএম

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো বা স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেকেই এখন চিনির বদলে কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার করছেন। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত কৃত্রিম মিষ্টি দীর্ঘদিন খেলে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজির সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে কৃত্রিম মিষ্টি গ্রহণ করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা তুলনামূলক দ্রুত কমে যেতে পারে। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কেবল একটি সম্পর্ক দেখিয়েছে। কৃত্রিম মিষ্টিই সরাসরি এর কারণ—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।

গবেষণায় প্রায় ১২ হাজার ৭৭২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে প্রায় আট বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫২ বছর। তাদের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম মিষ্টি গ্রহণের পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি দলে ভাগ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাদের স্মৃতিশক্তি, ভাষাগত দক্ষতা, স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কেন এত ভয়ংকর, জানুন কারণ 

গবেষণায় ব্যবহৃত কৃত্রিম মিষ্টির মধ্যে ছিল অ্যাসপারটেম, স্যাকারিন, এসেসালফেম-কে, এরিথ্রিটল, জাইলিটল, সরবিটল ও ট্যাগাটোজ। এসব উপাদান সাধারণত কম ক্যালরিযুক্ত কোমল পানীয়, স্বাদযুক্ত পানি, শক্তিবর্ধক পানীয়, দই, কম ক্যালরির মিষ্টান্ন এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে ব্যবহার করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কৃত্রিম মিষ্টি খাওয়া ব্যক্তিদের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি সবচেয়ে কম গ্রহণকারীদের তুলনায় প্রায় ৬২ শতাংশ দ্রুত কমেছে। গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তন মস্তিষ্কের বয়স প্রায় ১ দশমিক ৬ বছর বেড়ে যাওয়ার সমতুল্য হতে পারে। মাঝারি মাত্রায় কৃত্রিম মিষ্টি গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।

বিশেষভাবে ৬০ বছরের কম বয়সী এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট ছিল। গবেষকদের ধারণা, ডায়াবেটিস রোগীরা চিনির বদলে কৃত্রিম মিষ্টি বেশি ব্যবহার করায় এমন ফল দেখা যেতে পারে। সাত ধরনের কৃত্রিম মিষ্টির মধ্যে ছয়টির সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও ট্যাগাটোজের ক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

তবে গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণা পর্যবেক্ষণভিত্তিক। অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া খাদ্যতালিকার তথ্যের ওপর এটি নির্ভর করেছে। তাই এটি কারণ-ফলাফল প্রমাণ করে না। এজন্য এখনই কৃত্রিম মিষ্টি পুরোপুরি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কৃত্রিম মিষ্টি অনেক সময় উপকারী হতে পারে। তবে শুধু চিনি নেই বলে ইচ্ছেমতো এসব খাবার খাওয়া ঠিক নয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, সুষম ও প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম মিষ্টি সত্যিই মস্তিষ্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে আপাতত সংযমের সঙ্গে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।


আরটিভি/জেএমএ