অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কেন এত ভয়ংকর, জানুন কারণ 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪৮ পিএম


অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কেন এত ভয়ংকর, জানুন কারণ 
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার নীরব ঘাতক, যেসব লক্ষণ অবহেলা নয় । ছবি: সংগৃহীত

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার (Pancreatic Cancer) সবচেয়ে জটিল ও প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি। এই রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার ধরা পড়ে অনেক দেরিতে, যখন এটি শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে। তাই ঝুঁকির কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

অগ্ন্যাশয়ের ইংরেজি নাম হলো প্যানক্রিয়াস (Pancreas)। অগ্ন্যাশয় হজম সিস্টেম এবং মেরুদণ্ডের অন্তঃস্রাবী সিস্টেমের একটি অঙ্গ । মানুষের মধ্যে, এটি পেটের পিছনে পেটে অবস্থিত এবং একটি গ্রন্থি হিসাবে কাজ করে। এটি মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি, যা পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে। এটি শরীরবৃত্তীয় কাজে এনজাইম ও ইনসুলিনের মতো হরমোন তৈরি করে। 

অগ্ন্যাশয় শরীরে হজমে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই অঙ্গেই অস্বাভাবিক কোষ দ্রুত বাড়তে শুরু করলে ক্যানসার তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এক ধরনের ক্যানসার, যা অগ্ন্যাশয়ের বাইরের অংশের কোষ থেকে শুরু হয়। তুলনামূলক বিরল আরেক ধরনের ক্যানসার অগ্ন্যাশয়ের হরমোন উৎপাদনকারী কোষে তৈরি হয়।

আরও পড়ুন

 

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

শুরুতে অনেক সময় কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে রোগ বাড়লে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • পেটের ওপরের অংশ, পিঠ বা পাশের দিকে ব্যথা
  • জন্ডিস
  • বমি বমি ভাব ও হজমের সমস্যা
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • ক্ষুধামন্দা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
  • প্রস্রাব গাঢ় হওয়া
  • মল ফ্যাকাশে রঙের হওয়া
  • ত্বকে চুলকানি
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি

চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা নতুন করে ডায়াবেটিস ধরা পড়লেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিনের অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, পারিবারিক ইতিহাস এবং কিছু বংশগত জিনগত পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিছু রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কীভাবে রোগ শনাক্ত করা হয়

অগ্ন্যাশয় শরীরের ভেতরে গভীরে থাকায় সাধারণ শারীরিক পরীক্ষায় এই ক্যানসার ধরা পড়ে না। রোগ নির্ণয়ে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যান, রক্ত পরীক্ষা, টিস্যু পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে জিনগত পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসার উপায়

চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে তার ওপর। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। এছাড়া ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা, বিকিরণ চিকিৎসা এবং লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধও ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক পদ্ধতি একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়।

ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

সব ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ধূমপান থেকে দূরে থাকা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উপকারী হতে পারে। পরিবারের কারও এই ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন পেটব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, জন্ডিস বা হজমের সমস্যা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সূত্র: ক্লেভেল্যান্ড ক্লিনিক হেলথ 


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission