images

লাইফস্টাইল / পরামর্শ

সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কৈশোরে যেসব বিষয়ে আলোচনা জরুরি 

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫৮ পিএম

কৈশোর এমন একটি সময়, যখন একজন শিশুর শরীর, মন ও চিন্তাভাবনায় দ্রুত পরিবর্তন আসে। এই বয়সে নতুন অনেক প্রশ্ন, অনুভূতি ও কৌতূহলের জন্ম হয়। কিন্তু অনেক বাবা-মা এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরবতা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সময়মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।

যৌনতা ও শারীরিক পরিবর্তন

কৈশোরে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। অনেকেই এ সময় বন্ধু বা ইন্টারনেট থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করে, যা সব সময় সঠিক নাও হতে পারে। তাই সন্তানকে বয়স উপযোগীভাবে শারীরিক পরিবর্তন, ঋতুচক্র, প্রজনন এবং ভালো ও খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। এতে ভয় ও বিভ্রান্তি কমে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল দুনিয়া

বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অনলাইন জগৎ। অনলাইন হয়রানি, অবাস্তব সৌন্দর্যের ধারণা কিংবা অন্যের স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তানকে শুধু নিষেধ না করে, অনলাইন জগতের ভালো ও খারাপ দুই দিকই বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন।

নিজের শরীর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা

কৈশোরে অনেকেই নিজের উচ্চতা, ওজন, গায়ের রং বা চেহারা নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা-মায়ের উচিত সন্তানকে বোঝানো যে প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা এবং সেটাই স্বাভাবিক। নিজের প্রতি সম্মান ও আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন
Web-Image

দুপুরে ৪৫ মিনিটের ঘুমেই লুকিয়ে আছে মস্তিষ্কের জাদু

প্রেম, বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক

কৈশোরেই অনেকের জীবনে প্রথম ভালো লাগা বা প্রেমের অনুভূতি আসে। এ সময় সুস্থ সম্পর্ক কী, কোথায় সীমারেখা টানতে হবে এবং কখন কোনো সম্পর্ক থেকে সরে আসা উচিত—এসব বিষয়ে সন্তানকে খোলামেলা ধারণা দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পরিবার, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের গুরুত্বও বোঝাতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য

পড়াশোনার চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা অনলাইন জগতের প্রভাবে অনেক কিশোর-কিশোরী উদ্বেগ ও হতাশায় ভোগে। কিন্তু অনেকেই তা বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাগ করে না। তাই এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যেখানে সন্তান নির্দ্বিধায় নিজের কথা বলতে পারে এবং বাবা-মাকে শুধু অভিভাবক নয়, একজন বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু হিসেবেও দেখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোরে সময়মতো এই পাঁচটি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করলে সন্তান সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে, আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতের নানা ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।

 

আরটিভি/জেএমএ