images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

ঝাল খেলেই আসে হেঁচকি? যে টোটকায় মিলবে স্বস্তি

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫৮ পিএম

হঠাৎ ঝাল খাবার খাওয়ার পরই শুরু হলো একের পর এক হেঁচকি। অনেকেই তখন তড়িঘড়ি করে পানি খেয়ে সমস্যা কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সব সময় পানি খেলেই যে হেঁচকি থেমে যাবে, এমন নয়। চিকিৎসকদের মতে, হেঁচকির কারণ বুঝতে পারলে এটি থামানোও অনেক সহজ হয়ে যায়।

হেঁচকি কেন ওঠে?

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াফ্রাম নামের একটি পেশি হঠাৎ বারবার সংকুচিত হলে হেঁচকি ওঠে। ডায়াফ্রাম হলো বুক ও পেটের মাঝখানে থাকা একটি পাতলা পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হঠাৎ এই পেশি সংকুচিত হলে ফুসফুসে দ্রুত বাতাস ঢুকে পড়ে। একই সময় স্বরযন্ত্রের একটি অংশ দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। তখনই তৈরি হয় পরিচিত ‘হিক’ শব্দটি।

যেসব কারণে হেঁচকি উঠতে পারে

হেঁচকি ওঠার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। যেমন—

  • খুব দ্রুত বা বেশি খাওয়া
  • অতিরিক্ত ঝাল, গরম বা খুব ঠান্ডা খাবার খাওয়া
  • কোমল পানীয় বা গ্যাসযুক্ত পানীয় পান করা
  • খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে যাওয়া
  • ধূমপান ও মদ্যপান
আরও পড়ুন
Web-Image

টানা ৩০ দিন এক টুকরা আদা খেলেই মিলবে চমকে দেওয়া উপকার

পানি ছাড়াও যে উপায়ে মিলতে পারে স্বস্তি

চিকিৎসকদের মতে, জিভ টেনে ধরার পদ্ধতি অনেকের ক্ষেত্রে হেঁচকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এ জন্য মুখ যতটা সম্ভব বড় করে খুলে জিভ সোজা বাইরে বের করুন। এরপর ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড একইভাবে থাকুন। চাইলে হাত দিয়ে জিভ আলতো করে ধরে রাখতে পারেন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ বার করলে অনেকের হেঁচকি কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই পদ্ধতি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে ডায়াফ্রামের অস্বাভাবিক সংকোচন কমাতে সাহায্য করে।

ঘরোয়া কিছু উপায়ও কাজে আসতে পারে

হেঁচকি কমাতে কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। যেমন—

  • জিভে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দেওয়া
  • লেবুর সঙ্গে সামান্য আদা খাওয়া
  • অল্প পরিমাণ ঝাল সস জিভে দেওয়া
  • অল্প পরিমাণ চিনাবাদামের মাখন ধীরে ধীরে চুষে খাওয়া
  • চিনির সঙ্গে মাখন মিশিয়ে খাওয়া

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সাধারণত হেঁচকি কিছু সময়ের মধ্যেই নিজে থেকেই থেমে যায়। তবে যদি হেঁচকি ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থাকে, বারবার ফিরে আসে অথবা খাওয়া, ঘুম বা শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মনে রাখবেন

হেঁচকি সাধারণত সাময়িক সমস্যা হলেও বারবার হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। ধীরে খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল ও গ্যাসযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে হেঁচকির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

আরটিভি/জেএমএ