রান্নাঘরের পরিচিত একটি মসলা আদা। শুধু খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়াতেই নয়, বহু বছর ধরে এটি প্রাকৃতিক চিকিৎসার উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প পরিমাণ আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ধীরে ধীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ফল ও শাকসবজির পাশাপাশি কিছু মসলাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে আদা অন্যতম। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং প্রাকৃতিক সক্রিয় উপাদান, যা শরীরের নানা কাজ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদায় থাকা জিঞ্জারল, শোগাওল ও জিঞ্জিবেরিন নামের প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের জন্য উপকারী। বিভিন্ন গবেষণায় এসব উপাদানের ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আদার সবচেয়ে কার্যকর উপাদান জিঞ্জারল। এটি বমি বমি ভাব ও বমির প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি শরীরের প্রদাহ কমানো এবং জোড়ার ব্যথা বা ফোলাভাব কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া শোগাওল নামের আরেকটি উপাদান ব্যথা উপশমে সহায়ক বলে মনে করা হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হৃদ্রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নিয়মিত অল্প পরিমাণ আদা খাওয়ার অভ্যাস রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু আদা খেয়েই সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে। তাই প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ৩০ দিন প্রতিদিন অল্প পরিমাণ আদা খেলে এর উপকার ধীরে ধীরে শরীরে প্রকাশ পেতে শুরু করতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আদা রাখার অভ্যাস অনেকের জন্যই উপকারী হতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



