রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০২:২২ পিএম
অফিসের বৈঠক, শ্রেণিকক্ষ কিংবা বাসে বসে আছেন। হঠাৎ পাশের একজন মুখ খুলে হাই তুললেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেরও হাই চলে এল। এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে। অনেকেই মনে করেন, হাই শুধু ঘুম বা ক্লান্তির লক্ষণ। কিন্তু গবেষকদের মতে, এর পেছনে কাজ করে মস্তিষ্কের নানা প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাই তোলা কোনো রোগ নয়, আবার এটি ভাইরাস বা জীবাণুর মতো ছোঁয়াচেও নয়। তবুও একজনকে হাই তুলতে দেখলে অন্যজনেরও হাই চলে আসে। এর কারণ মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
অনেক দিন ধরেই ধারণা ছিল, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলেই হাই ওঠে। তবে গবেষকদের মতে, হাই তোলার সঙ্গে শরীরের অক্সিজেন বা কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রার সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং এটি মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখার একটি স্বাভাবিক উপায়। হাই তোলার সময় বাইরের বাতাস শরীরে প্রবেশ করে এবং চোখ ও মুখের পেশির নড়াচড়ার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলও কিছুটা বেড়ে যায়। এতে মস্তিষ্ক সতেজ থাকতে সাহায্য পায়।
হাই মানেই যে ঘুম আসছে, এমনও নয়। অনেক সময় ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে শরীরকে আবার সচল করতেও হাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাই তোলার সময় বুকের পেশি প্রসারিত হয়, সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন বাড়ে এবং মস্তিষ্ক নতুন করে সজাগ হওয়ার সংকেত পায়।
তাহলে অন্যকে হাই তুলতে দেখলে নিজেরও হাই আসে কেন? গবেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে মানুষের স্বাভাবিক অনুকরণ করার প্রবণতা। মানুষ অনেক সময় অজান্তেই আশপাশের মানুষের মুখভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি কিংবা আচরণ অনুসরণ করে। হাই তোলার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, মানুষের মস্তিষ্কে এমন কিছু স্নায়ুকোষ রয়েছে, যা অন্যের কাজ অনুকরণ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অন্যের অনুভূতি বোঝা এবং তার সঙ্গে মানসিকভাবে সংযোগ তৈরি করার ক্ষমতাও এই প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তাই কাউকে হাই তুলতে দেখলে নিজেরও হাই চলে আসে।
শুধু মানুষ নয়, কিছু প্রাণীর মধ্যেও এমন আচরণ দেখা যায়। অনেক সময় মালিককে হাই তুলতে দেখলে পোষা কুকুর বা বিড়ালও হাই তোলে। যদিও এ বিষয়ে গবেষণা এখনও চলছে এবং সব ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায়নি।
গবেষকদের মতে, অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশুর ক্ষেত্রে অন্যকে হাই তুলতে দেখেও একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। কারণ তাদের সামাজিক অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়ার ধরন ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, হাই তোলা শুধু ক্লান্তি বা ঘুমের লক্ষণ নয়। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের অংশ, যা শরীরকে সতেজ রাখতে এবং মানুষের পারস্পরিক অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেও ভূমিকা রাখে।
আরটিভি/জেএমএ