সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৯ পিএম
দাঁতের যত্ন সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাজারে পণ্যের সারিতে দেখা মেলে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট। এসব পণ্য বেছে নেওয়ার সময় অধিকাংশ মানুষ সাধারণত এর উপাদান, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং কখনো কখনো স্বাদের বিষয় বিবেচনা করেন। টুথপেস্টের প্যাকেটে সাধারণত লেখা থাকে—দাঁত সাদা করা, দাঁতের ক্ষয় রোধ, টার্টার নিয়ন্ত্রণ কিংবা মুখের দুর্গন্ধ দূর করার মতো গুণাবলির কথা।
তবে টুথপেস্টের টিউবের নিচে থাকা রঙিন দাগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে আছে। টিউবের নিচে সাধারণত বিভিন্ন রঙের ছোট চারকোনা দাগ বা বার দেখা যায়। অনেকের ধারণা, এসব রঙ টুথপেস্টের তৈরি উপাদান সম্পর্কে তথ্য দেয়।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া দাবি অনুযায়ী—সবুজ রঙের দাগ মানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান; নীল রঙ মানে প্রাকৃতিক ও ওষুধযুক্ত উপাদান; লাল রঙ মানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ এবং কালো রঙ মানে সম্পূর্ণ রাসায়নিক উপাদান।
তবে বাস্তবে এই তথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক বা ব্যবহারিক ভিত্তি নেই। টিউবের নিচের রঙিন চিহ্ন টুথপেস্টের ফর্মুলা বা উপাদানের সঙ্গে একেবারেই সম্পর্কিত নয়। মূলত উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় এই চিহ্ন তৈরি করা হয়। প্যাকেজিং মেশিনের আলো শনাক্তকারী সেন্সর এই চিহ্ন পড়ে মেশিনকে সংকেত দেয় যে কোথায় প্যাকেট কাটতে, ভাঁজ করতে বা সিল করতে হবে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক মার্কিন পোর্টাল হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুথপেস্টের টিউবের নিচের রঙিন দাগগুলোর সঙ্গে ভেতরের উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো শুধুই প্যাকেজিংয়ের প্রযুক্তিগত অংশ, যা স্বয়ংক্রিয় মেশিনকে সঠিক স্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোলগেট জানিয়েছে, টুথপেস্টের কালার-কোডিং সিস্টেম বলতে বাস্তবে কিছুর অস্তিত্ব নেই। গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে বা উপাদান লুকাতে কোম্পানিগুলো এসব দাগ ব্যবহার করে না।
আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস এবং বার্তা সংস্থা এএফপি ফ্যাক্ট-চেক এই দাবিটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ইন্টারনেট গুজব’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্যাকেজিং বিশেষজ্ঞদের মতে, মেশিনের লাইট বিম সেন্সরকে সংকেত দেওয়ার জন্য প্রিন্ট করা এই প্রযুক্তিগত দাগকে শিল্পখাতে ‘আই মার্ক’ বলা হয়ে থাকে।
বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান এই গুজবের একটি বড় বৈজ্ঞানিক ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। গুজবে বলা হয় ‘কালো মানে সম্পূর্ণ কেমিক্যাল’। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু বা উপাদানই এক একটি রাসায়নিক গঠন। তাই প্রাকৃতিক বনাম রাসায়নিকের এই কৃত্রিম বিভাজনটিই সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এই ‘আই মার্ক’ শুধু সবুজ, নীল, লাল বা কালো নয়—বিভিন্ন রঙের হতে পারে। সেন্সর মূলত রঙ চেনে না, বরং ব্যাকগ্রাউন্ড ও কালার মার্কের মধ্যকার আলোর তারতম্য মেপে কাজ করে। টিউবের সাদা অংশ থেকে গাঢ় রঙের দাগে আলো পড়া মাত্রই পরিবর্তন শনাক্ত করে সেন্সরটি কাটিং বা সিলিং রোবটকে সংকেত পাঠায়।
তাই টুথপেস্টের টিউবের নিচের রঙিন দাগের সঙ্গে এর উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই। টুথপেস্টে কী উপাদান রয়েছে তা জানতে টিউব বা প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদানতালিকা পড়া উচিত। টুথপেস্ট কেনার সময় অনুমোদিত সিল, মেয়াদ ও নিজের প্রয়োজন বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরটিভি/এআর