ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রামীণ কাঠকয়লা-নিমের ডাল, দাঁতের যত্নে কোনটি বেশি উপকারী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

​বাঙালি মাত্রই ছোটবেলায় দাদাদিদার হাতে নিমের ডাল দিয়ে কিংবা গ্রামের মেঠো পথে কাঠকয়লার গুঁড়ো বা ছাই দিয়ে দাঁত মাজার দৃশ্য দেখেছেন বা নিজেরাও হয়তো অংশ নিয়েছেন। আধুনিক টুথপেস্ট আর ব্রাশের যুগে এই প্রথাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে বটে, কিন্তু দাঁতের সুরক্ষায় এদের কার্যকারিতা আজও ফুরিয়ে যায়নি।

​তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় দাঁতের জন্য আসলে কোনটি বেশি উপকারী? গ্রামীণ কাঠকয়লা নাকি নিমের ডাল? চলুন, দুটির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।

​নিমের ডাল: প্রকৃতির নিজস্ব অ্যান্টিবায়োটিক

​প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নিমের ডালকে ‘প্রাকৃতিক টুথব্রাশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নিমগাছের ডালে রয়েছে অসাধারণ ঔষধি গুণ।

​ব্যাকটেরিয়া নাশক: নিমে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান, যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর জীবাণু ও ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

​মাড়ির সুরক্ষা: নিয়মিত নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ি শক্ত হয় এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা দূর হয়।

​মুখের দুর্গন্ধ দূর: এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দারুণ কার্যকর।

​ব্যবহারের নিয়ম: নিমের ডাল চিবিয়ে নরম করে ব্রাশের মতো ব্যবহার করা হয়। এর তিতা রস মুখের ভেতরের লালার সাথে মিশून দাঁত ও মাড়িকে সুরক্ষিত রাখে।

​গ্রামীণ কাঠকয়লা (বা ছাই): প্রাচীন শেকড়ের ডেন্টিস্ট্রি

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আরেকটি উপাদান হলো উনুনের পোড়া কাঠকয়লা বা তার ছাই, যা গুঁড়ো করে দাঁত মাজা হতো।

​প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট: কাঠকয়লার মধ্যে রয়েছে চমৎকার অ্যাবজরভেন্ট বা শোষণ ক্ষমতা। এটি দাঁতের ওপর জমে থাকা হলুদ বা কালচে দাগ (যেমন- চা, কফি বা তামাকের দাগ) দ্রুত তুলে ফেলতে সাহায্য করে।
​
মুখের পিএইচ ভারসাম্য: এটি মুখের ভেতরের ক্ষতিকর অ্যাসিড দূর করতে এবং মুখের ভেতরে ক্ষারীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
​
সতর্কতা: কাঠকয়লার গুঁড়ো অত্যন্ত এব্রাসেভ বা কর্কশ। যদি এটি অতিরিক্ত জোরে বা প্রতিদিন ঘষা হয়, তবে দাঁতের ওপরের মূল্যবান এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে, ফলে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
​
তুলনামূলক বিশ্লেষণ: কোনটি সেরা

দাঁতের সুরক্ষায় কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার দিক থেকে বিবেচনা করলে নিমের ডাল কাঠকয়লার চেয়ে তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ ও উপকারী।

​বিশেষজ্ঞদের মতামত: ডেন্টিস্টদের মতে, নিমের ডালে ভেষজ গুণ থাকায় তা মাড়ি ও দাঁত উভয়কেই সুস্থ রাখে। অন্যদিকে, কাঠকয়লার গুঁড়ো দাঁতের দাগ তোলার জন্য সাময়িকভাবে কার্যকর হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহারে দাঁতের এনামেল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

​​আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীণ এই ঐতিহ্যগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। তবে দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষায় সপ্তাহে এক-আধ দিন নিমের ডালের ব্যবহার অত্যন্ত উপকারী। আধুনিক পেস্ট ব্যবহারের পাশাপাশি শেকড়ের টানে মাঝে মাঝে নিমের ডাল ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনার দাঁত ও মাড়িকে রাখবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
জেনে নিন দাঁতের যত্নের উপকারীতা
চল্লিশ পেরোলেই দাঁতের যত্নে বাড়তি সতর্কতা, না হলে বাড়তে পারে বিপদ
দাঁতের রুট ক্যানাল চিকিৎসার পর আইসক্রিম খাওয়া কী ঠিক
চীনে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৮২