images

লাইফস্টাইল / পরামর্শ

সন্তানের সঙ্গে এক বিছানায় ঘুম, উপকার নাকি ঝুঁকি

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১০:০১ এএম

সন্তানকে আলাদা ঘরে ঘুম পাড়ানো ভালো, নাকি মা–বাবার সঙ্গে একই বিছানায়? এই প্রশ্নে বহুদিন ধরেই চলছে আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নিরাপদ নিয়ম মেনে ছোট শিশুর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে তার মানসিক বিকাশ, নিরাপত্তাবোধ এবং মা–বাবার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে। তবে একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিয়মও মেনে চলা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম দিকে মা–বাবার কাছাকাছি থাকা তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। এতে শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং সে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। রাতে কান্না করলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায় বলেও শিশুর মানসিক চাপ কমে।

বিশেষ করে যেসব মা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের জন্য একই বিছানায় ঘুমানো অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হতে পারে। এতে রাতে বারবার উঠে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি মা ও শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা এবং হৃদস্পন্দনের মধ্যে স্বাভাবিক সমন্বয়ও তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

আয়রনের ওষুধেও মিলছে না ফল, ভুল করছেন না তো?

তবে অনেক দেশে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই আলাদা ঘুমানোর অভ্যাস করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এতে শিশুর স্বাধীনতা বাড়ে। অন্যদিকে অনেক গবেষক মনে করেন, শিশুর কান্নাকে দীর্ঘ সময় উপেক্ষা করলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং তার আবেগগত বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা হলো জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মা–বাবার একই ঘরে আলাদা খাটে বা দোলনায় ঘুমানো। তবে বাস্তবে অনেক পরিবারই কখনো না কখনো একই বিছানায় ঘুমায়। তাই তাদের নিরাপদ উপায়ে এটি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই বিছানায় ঘুমালে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। নরম সোফা বা আরামকেদারায় কখনোই শিশুকে নিয়ে ঘুমানো উচিত নয়। বিছানা শক্ত ও সমতল হওয়া প্রয়োজন। শিশুর মুখের কাছে বালিশ, মোটা কম্বল বা অন্য কোনো জিনিস রাখা যাবে না। মদ্যপান, ধূমপান বা ঘুমের ওষুধ সেবনের পর শিশুর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানো ঝুঁকিপূর্ণ।

একটি জরিপে দেখা গেছে, অনেক অভিভাবকই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে শিশুর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমান। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে একই বিছানায় ঘুমানোর ঘটনাই শিশুর জন্য সবচেয়ে বেশি বিপদ ডেকে আনে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের দোষারোপ না করে নিরাপদ ঘুমের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করাই সবচেয়ে জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ঘুমের ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার নিরাপত্তা, বয়স এবং পরিবারের বাস্তব পরিস্থিতি। সচেতনতা ও নিরাপদ নিয়ম মেনে চললে শিশুর সুস্থ বিকাশ এবং নিরাপদ ঘুম—দুটিই নিশ্চিত করা সম্ভব।

সূত্র: লন্ডন স্কুল অফ চাইল্ড কেয়ার স্টাডিজ 


আরটিভি/জেএমএ