বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫৩ এএম
সারা দিন নিয়ম মেনে খাবার খাওয়ার পরও রাত হলেই অনেকের তীব্র খিদে পায়। তখন মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা মুখরোচক নানা খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। অনেকেই এটিকে ইচ্ছাশক্তির অভাব বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি সব সময় আত্মনিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকে দিনের বেলার ভুল খাদ্যাভ্যাস।
ফিটনেস প্রশিক্ষকদের মতে, শরীর সারা দিনে কতটা পুষ্টি ও শক্তি পেয়েছে, তার হিসাব রাখে। দিনের বেলায় প্রয়োজনের তুলনায় কম খেলে বা পর্যাপ্ত ক্যালোরি ও প্রোটিন না পেলে শরীর রাতের দিকে সেই ঘাটতি পূরণ করতে চায়। তখনই হঠাৎ খিদে বেড়ে যায় এবং মিষ্টি বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমানোর আশায় অনেকেই সকালের খাবার এড়িয়ে যান বা শুধু চা, কফি, ফল কিংবা অল্প কিছু খেয়ে দিন শুরু করেন। আবার দুপুরেও খুব কম খাবার খান। এতে সাময়িকভাবে কম খাওয়া হলেও দিনের শেষে শরীর অতিরিক্ত খাবার দাবি করতে শুরু করে। ফলে ওজন কমার বদলে উল্টো বেশি খেয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হয়।
রাতের অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে দিনের প্রতিটি বেলার খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা জরুরি। ডিম, ডাল, মাছ, মুরগির মাংস, দইসহ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এতে রাতের দিকে অপ্রয়োজনীয় খিদেও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আর যদি রাতে খিদে পেয়েই যায়, তাহলে মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা প্যাকেটজাত খাবারের বদলে ফল, বাদাম, দই বা প্রোটিনসমৃদ্ধ হালকা খাবার খাওয়াই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার রাতের খিদে মানেই ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা নয়। বরং এটি অনেক সময় শরীরের একটি সংকেত, যা জানিয়ে দেয় দিনের বেলায় প্রয়োজনমতো খাবার ও পুষ্টি পাওয়া হয়নি। তাই রাতের খাবার কমানোর আগে দিনের খাবারের পরিমাণ ও পুষ্টিগুণের দিকে নজর দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ